১৪/২৪২. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহ বলেছেন,فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ“তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদের স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, আর কৃতঘ্ন হয়ো না।” (সূরা বাকারা ১৫২ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ“তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দান করব, আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।” (সূরা ইব্রাহীম ৭ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ“বল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।” (সূরা ইসরা ১১১ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ“তাদের শেষ বাক্য হবে, আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন (সমস্ত প্রশংসা সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য)।” (সূরা ইউনুস ১০ আয়াত)
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ، أُتِيَ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ بِقَدَحَيْنِ مِنْ خَمْرٍ وَلَبَنٍ، فَنَظَرَ إِلَيْهمَا فَأَخَذَ اللَّبَنَ. فَقَالَ جِبرِيلُ: اَلحَمْدُ للهِ الَّذِي هَدَاكَ لِلفِطْرَةِ لَوْ أَخَذْتَ الخَمْرَ غَوَتْ أُمَّتُكَ. رواه مسلم
যে রাতে নবী (ﷺ)-কে মি’রাজ ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে রাতে তাঁর নিকট মদ ও দুধের দু’খানা পাত্র আনা হল। তখন তিনি উভয়ের দিকে তাকিয়ে দেখে দুধের বাটি খানা তুলে নিলেন। এ দেখে জিবরাঈল (আঃ) বললেন: ’সেই আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আপনাকে প্রকৃতির দিকেই পথ দেখালেন। যদি আপনি মদের পাত্রটি ধারণ করতেন, তাহলে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।’ (মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৩৩৯৪, ৩৪৩৭, ৫৫৭৬, ৫৬০৩, মুসলিম ১৬৮, ১৭২, তিরমিযী ৩১৩০, নাসায়ী ৫৬৫৭, আহমাদ ২৭৩০৬, ১০২৬৯, দারেমী ২০৮৮
وَعَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قال: «كُلُّ أمْرٍ ذِيْ بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيْهِ بِـــ: الْحَمْدُ لِلَّه فَهُوَ أقْطُع» حديثٌ حسَنٌ، رواهُ أبو داود وغيرُهُ.
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর প্রশংসার সাথে আরম্ভ না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। (আবূ দাউদ প্রমুখ)[১]
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি সনদ দুর্বল আর ভাষায় ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে যেমনটি আমি “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থের প্রথমে (১-২) ব্যাখ্যা করেছি। এর সনদের বর্ণনাকারী কুর্রা ইবনু আব্দির রহমান মু‘য়াফিরী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি খুবই মুনকারুল হাদীস আর ইবনু মা‘ঈন তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি দুর্বল। শু‘য়াইব আলআরনাঊতও হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। দেখুন আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ্ নায়াঅনী কর্তৃক লিখিত গ্রন্থ “মাজমূ‘আতুল আহাদীসুয য‘ঈফাহ্ ফী কিতাবি রিয়াযিস সালেহীন”(২৭)। বিস্তারিত জানতে “ইরওয়াউল গালীল” দেখুন।
وَعَنْ أَبي مُوسَى الأَشعَرِي رضي الله عنه:أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «إِذَا مَاتَ وَلَدُ العَبْدِ قَالَ اللهُ تَعَالَى لِمَلائِكَتِهِ: قَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ، فيَقُولُ: قَبَضْتُمْ ثَمَرَةَ فُؤادِهِ؟ فيَقُولُونَ: نَعَمْ، فيَقُولُ: مَاذَا قَالَ عَبْدِي؟ فَيَقُولُونَ: حَمِدَكَ وَاسْتَرْجَعَ، فيَقُولُ اللهُ تَعَالَى: ابْنُوا لِعَبْدِي بَيتاً فِي الجَنَّةِ، وَسَمُّوهُ بَيْتَ الحَمْدِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায়, তখন মহান আল্লাহ স্বীয় ফেরেশতাদেরকে বলেন, ’তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জীবন হনন করেছ কি?’ তাঁরা বলেন, ’হ্যাঁ।’ তিনি বলেন, ’তোমরা তার হৃদয়ের ফলকে হনন করেছ?’ তাঁরা বলেন, ’হ্যাঁ।’ তিনি বলেন, ’সে সময় আমার বান্দা কি বলেছে?’ তাঁরা বলে, ’সে আপনার হামদ (প্রশংসা) করেছে ও ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রা-জিঊন (অর্থাৎ আমরা তোমার এবং তোমার কাছেই অবশ্যই ফিরে যাব) পাঠ করেছে।’ মহান আল্লাহ বলেন, ’আমার (সন্তানহারা) বান্দার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি গৃহ নির্মাণ কর, আর তার নাম রাখ, ’বায়তুল হামদ’ (প্রশংসা-ভবন)।”(তিরমিযী হাসান)[১]
তিরমিযী ১০২১
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «إِنَّ الله لَيرْضَى عَنِ العَبْدِ يَأكُلُ الأَكْلَةَ، فَيَحْمَدُهُ عَلَيْهَا، وَيَشْرَبُ الشَّرْبَة، فَيَحْمَدُهُ عَلَيْهَا». رواه مسلم
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন, যে বান্দা কিছু খেলে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং কিছু পান করলেও আল্লাহর প্রশংসা করে (অর্থাৎ আল-হামদু লিল্লাহ পড়ে)।”(মুসলিম)[১]
মুসলিম ২৭৩৪, তিরমিযী ১৮১৬, আহমাদ ১১৫৬২, ১১৫৭৮