১/১১. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১০১ - রমযানের শেষ দশকে ইবাদতের চেষ্টা

মুজাহাদাহ বা দ্বীনের জন্য এবং আত্মা, শয়তান ও দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে নিরলস চেষ্টা, টানা পরিশ্রম ও আজীবন সংগ্রাম করার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ جَٰهَدُواْ فِينَا لَنَهۡدِيَنَّهُمۡ سُبُلَنَاۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَمَعَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ٦٩ ﴿ [العنكبوت: ٦٩]অর্থাৎ “যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গেই থাকেন।” (সূরা আনকাবূত ৬৯ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَٱعۡبُدۡ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأۡتِيَكَ ٱلۡيَقِينُ ٩٩ ﴿ [الحجر: ٩٩]অর্থাৎ “আর তোমার মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর।” (সূরা হিজর ৯৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱذۡكُرِ ٱسۡمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلۡ إِلَيۡهِ تَبۡتِيلٗا ٨ ﴿ [المزمل: ٨]অর্থাৎ “সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর এবং একনিষ্ঠভাবে তাতে মগ্ন হও।” (সূরা মুয্যাম্মিল ৮ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ ﴿ [الزلزلة: ٧]অর্থাৎ “সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৭ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴾ وَمَا تُقَدِّمُواْ لِأَنفُسِكُم مِّنۡ خَيۡرٖ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيۡرٗا وَأَعۡظَمَ أَجۡرٗاۚ ﴿ [المزمل: ٢٠]অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের আত্মার মঙ্গলের জন্য ভাল যা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করবে তোমরা তা আল্লাহর নিকট উৎকৃষ্টতর এবং পুরস্কার হিসাবে মহত্তর পাবে।” (সূরা মুযযাম্মিল ২০ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴾ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ ﴿ [البقرة: ٢٧٣]অর্থাৎ “আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭৩ আয়াত)এ বিষয়ে সুবিদিত আয়াত অনেক রয়েছে। উক্ত মর্মের হাদীসসমূহ নিম্নরূপঃ

রমযানের শেষ দশকে ইবাদতের গুরুত্ব ও নববী আমল

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১০১

الخامس: عن عائشة رضي اللَّه عنها أنها قالت: «آان رسولُ اللَّه صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم إذَا دَخَلَ الْعشْرُأحيا اللَّيْل،َ وأيقظ أهْله،ْ وجدَّ وشَدَّ المِئْزَرَ» متفقٌ عليه. والمراد: الْعشْرُ الأواخِرُ من شهر رمضان: «وَالمِئْزَر»: الإِزارُ وهُو آِنايَةٌ عن اعْتِزَال النِّساء،ِ وقِيلَ: المُرادُتشْمِيرهُ للعِبادَةِ. يُقالُ: شَددْتُ لِهذا الأمرِ مِئْزَرِي، أيْ: تشمرتُ وَتَفَرَّغتُ لَه

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ’আনহু হতে বর্ণিতঃ

আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’যখন (রমযানের শেষ) দশক শুরু হত, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত জাগতেন, নিজ পরিবারকে জাগাতেন, (ইবাদতে) খুবই চেষ্টা করতেন এবং (এর জন্য) তিনি কোমর বেঁধে নিতেন।’[১]

সহীহুল বুখারী ২০২৪, মুসলিম ১১৭৪, তিরমিযী ৭৯৬, নাসায়ী ১৬৩৯, আবূ দাউদ ১৩৭৬, ইবনু মাজাহ ১৭৬৮, আহমাদ ২৩৬১১, ১২৩৮৫৬, ২৩৮৬৯

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্‌-নাবাবী (রহ.)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১০১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) রমযানের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের কথা বলেছেন। শেষ দশক শুরু হলে তিনি রাত জাগতেন, পরিবারকে জাগাতেন এবং ইবাদতে বিশেষ চেষ্টা করতেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো—রমযানের শেষ দশক অবহেলার সময় নয়; বরং নামাজ, দোয়া, যিকর ও আল্লাহর দিকে মন দেওয়ার সময়। “কোমর বেঁধে নেওয়া” কথাটি ইবাদতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা ও মনোযোগী হওয়ার অর্থে এসেছে। তাই রমযানের শেষ দশকের আমল হিসেবে শুধু নিজের ইবাদত নয়, পরিবারকেও ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি আমাদের শেখায়, বরকতময় সময়ে বেশি চেষ্টা করা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাহ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রমযানের শেষ দশকে ইবাদতের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া সুন্নাহ।
  • পরিবারকে ভালো কাজে জাগানো ও উৎসাহ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
  • বরকতময় সময় পেলে অলসতা না করে আল্লাহর ইবাদতে চেষ্টা করা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন