১/১১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১০৮ - বেশি সিজদা ও জান্নাতে সঙ্গ
মুজাহাদাহ বা দ্বীনের জন্য এবং আত্মা, শয়তান ও দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে নিরলস চেষ্টা, টানা পরিশ্রম ও আজীবন সংগ্রাম করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ جَٰهَدُواْ فِينَا لَنَهۡدِيَنَّهُمۡ سُبُلَنَاۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَمَعَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ٦٩ ﴿ [العنكبوت: ٦٩]অর্থাৎ “যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গেই থাকেন।” (সূরা আনকাবূত ৬৯ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَٱعۡبُدۡ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأۡتِيَكَ ٱلۡيَقِينُ ٩٩ ﴿ [الحجر: ٩٩]অর্থাৎ “আর তোমার মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর।” (সূরা হিজর ৯৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱذۡكُرِ ٱسۡمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلۡ إِلَيۡهِ تَبۡتِيلٗا ٨ ﴿ [المزمل: ٨]অর্থাৎ “সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর এবং একনিষ্ঠভাবে তাতে মগ্ন হও।” (সূরা মুয্যাম্মিল ৮ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ ﴿ [الزلزلة: ٧]অর্থাৎ “সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৭ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴾ وَمَا تُقَدِّمُواْ لِأَنفُسِكُم مِّنۡ خَيۡرٖ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيۡرٗا وَأَعۡظَمَ أَجۡرٗاۚ ﴿ [المزمل: ٢٠]অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের আত্মার মঙ্গলের জন্য ভাল যা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করবে তোমরা তা আল্লাহর নিকট উৎকৃষ্টতর এবং পুরস্কার হিসাবে মহত্তর পাবে।” (সূরা মুযযাম্মিল ২০ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴾ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ ﴿ [البقرة: ٢٧٣]অর্থাৎ “আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭৩ আয়াত)এ বিষয়ে সুবিদিত আয়াত অনেক রয়েছে। উক্ত মর্মের হাদীসসমূহ নিম্নরূপঃ
বেশি সিজদার ফজিলত: জান্নাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহচর্যের আশা
রিয়াদুস সালেহীন : ১২/১০৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/১০৮
عن أبي فراس ربيعة بن كعب الأسلمى خادم رسول الله ﷺ، ومن أهل الصفة رضي الله عنه قال: " كنت أبيت مع رسول الله ﷺ، فآتيه بوضوئه، وحاجته فقال: "سلني" فقلت: أسألك مرافقتك في الجنة. فقال: ( أوغير ذلك؟" قلت: هو ذاك قال: " فأعني على نفسك بكثرة السجود" (رواه مسلم).
আবূ ফিরাস রাবীআহ ইবনু কা‘ব আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে রাত কাটাতাম। আমি তাঁর কাছে ওজুর পানি এবং প্রয়োজনীয় বস্তু এনে দিতাম। (একদিন তিনি খুশি হয়ে) বললেন, ’’তুমি আমার কাছে কিছু চাও।’’ আমি বললাম, ’আমি আপনার কাছে জান্নাতে আপনার সাহচর্য চাই।’ তিনি বললেন, ’’এ ছাড়া আর কিছু?’’ আমি বললাম, ’বাস ওটাই।’ তিনি বললেন, ’’তাহলে তুমি, অধিকাধিক সিজদা করে (অর্থাৎ প্রচুর নফল নামাজ পড়ে) তোমার (এ আশা পূরণের) জন্য আমাকে সাহায্য কর।’’[১]
সহীহুল বুখারী ৪৮৯, তিরমিযী ৩৪১৬, নাসায়ী ১১৩৮, ১৬১৮, আবূ দাউদ ১৩২০, ইবনু মাজাহ ৩৮৭৯, আহমাদ ১৬১৩৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাবীআ ইবনু কা’ব আল-আসলামী (রাঃ)-এর একটি সুন্দর ঘটনা এসেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সেবা করতেন এবং ওজুর পানি এনে দিতেন। একদিন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে কিছু চাইতে বললেন। তিনি দুনিয়ার কোনো জিনিস চাননি; বরং জান্নাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহচর্য চাইলেন। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বললেন, বেশি সিজদার মাধ্যমে নিজের ব্যাপারে তাঁকে সাহায্য করতে। এখানে বেশি সিজদা বলতে নফল নামাজ ও আল্লাহর সামনে বেশি বিনয় বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি জান্নাতের উচ্চ আশা, নফল ইবাদতের গুরুত্ব এবং আল্লাহর সামনে সিজদার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উচ্চ আশা হলে তার জন্য নেক আমলের চেষ্টা দরকার।
- বেশি সিজদা ও নফল নামাজ আল্লাহর নৈকট্যের একটি পথ।
- দুনিয়ার চাওয়ার চেয়ে আখিরাতের চাওয়া বেশি মূল্যবান হতে পারে।
