৯/১৯৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১০৯৬ - কাতার সোজা না করলে বিভেদের সতর্কতা
প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
কাতার সোজা না করার পরিণতি: বিভেদ থেকে বাঁচার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/১০৯৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/১০৯৬
وَعَنِ النُّعمَانِ بنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ يَقُوْلُ: «لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ، أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ». متفقٌ عَلَيهِوفي رواية لمسلم: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ كَانَ يُسَوِّي صُفُوفَنَا، حَتَّى كَأنَّمَا يُسَوِّي بِهَا القِدَاحَ حَتَّى رَأى أنَّا قَدْ عَقَلْنَا عَنْهُ، ثُمَّ خَرَجَ يَوماً فَقَامَ حَتَّى كَادَ يُكَبِّرُ، فَرَأى رَجُلاً بَادِياً صَدْرُهُ مِنَ الصَّفِّ، فَقَالَ: عِبَادَ اللهِ! لتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ، أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ
নু‘মান ইবনে বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, “অবশ্যই তোমরা নিজেদের কাতার সোজা করে নিবে; নচেৎ আল্লাহ তোমাদের মুখমণ্ডলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন।” (বুখারী ও মুসলিম) [১] মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাতারগুলি এমনভাবে সোজা করতেন, যেন তিনি এর দ্বারা তীর সোজা করছেন। (তিনি তাতে প্রবৃত্ত থাকতেন) যতক্ষণ না তিনি (ﷺ) জানতে পারতেন যে, আমরা তাঁর কথা বুঝে ফেলেছি।একদিন তিনি বাইরে এলে (তারপর মুয়াজ্জিন) তাকবির দিতে উদ্যত হচ্ছিল, এমন সময় একটি লোকের উপর তাঁর দৃষ্টি পড়ল, যার বুক কাতার থেকে আগে বেরিয়ে ছিল। তিনি বললেন, “আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা নিজেদের কাতার সোজা করে নাও; নচেৎ তোমাদের মুখমণ্ডলের মধ্যে আল্লাহ বিভিন্নতা ও বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন।” (অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা জন্ম নেবে, যার অনিবার্য পরিণতি হবে অনৈক্য, অশান্তি-দ্বন্দ্ব-কলহ তথা অধঃপতন।)
সহীহুল বুখারী ৭১৭, মুসলিম ৪৩৬, তিরমিযী ২২৭, নাসায়ী ৮১০, আবূ দাউদ ৬৬২, ৬৬৩, ৬৬৫, ইবনু মাজাহ ৯৯৪, আহমাদ ১৭৯০৯, ১৭৯১৮, ১৭৯৫৯
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১০৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, অবশ্যই তোমরা নিজেদের কাতার সোজা করবে; নচেৎ আল্লাহ তোমাদের মুখমণ্ডলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবেন। মুসলিমের বর্ণনায় দেখা যায়, তিনি কাতার এমনভাবে সোজা করতেন যেন তীর সোজা করছেন। একবার এক ব্যক্তির বুক কাতার থেকে বেরিয়ে থাকতে দেখে তিনি আবার সতর্ক করলেন। এই হাদিসে কাতার সোজা রাখার গুরুত্ব খুব শক্তভাবে এসেছে। জামাআতের নামাজে সামান্য অগোছালো ভাবও অবহেলা করা উচিত নয়। কাতার শুধু দেহের সারি নয়; মুসল্লিদের মিল, শৃঙ্খলা ও একসাথে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর চিহ্ন। তাই কাতারে দাঁড়ালে বুক, কাঁধ ও সারির সোজা থাকা খেয়াল করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাতার সোজা করার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ এসেছে।
- কাতার থেকে বুক বেরিয়ে থাকা বা আগে-পিছে দাঁড়ানো ঠিক নয়।
- জামাআতের শৃঙ্খলা মুসল্লিদের মিলের সাথে যুক্ত।
- নামাজ শুরুর আগে সারি ঠিক করা সুন্নাহসম্মত আদব।
