৯/২১২. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১১৭৮ - রোজা, ঘুম ও রাতের নামাজে নবীজির ভারসাম্য
রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
মহান আল্লাহ বলেন,﴾ وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَىٰ أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا ﴿ (الاسراء: ٧٩অর্থাৎ রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর; এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল ৭৯ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾ تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ﴿ (السجدة: ١٦অর্থাৎ তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী প্রদান করেছি, তা হতে তারা দান করে। (সূরা সেজদা ১৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ﴿(الذاريات: ١٧)অর্থাৎ তারা রাত্রির সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত। (সূরা যারিয়াত ১৭ আয়াত)
রোজা ও রাতের নামাজে ভারসাম্য: নবীজির আমলের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১২/১১৭৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/১১৭৮
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ يُفْطِرُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يَصُومَ مِنْهُ، وَيَصُومُ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يُفْطِرَ مِنْهُ شَيْئاً، وَكَانَ لاَ تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيلِ مُصَلِّياً إِلاَّ رَأيْتَهُ، وَلاَ نَائِماً إِلاَّ رَأيْتَهُ. رواه البخاري
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ’কোন কোন মাসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনভাবে রোজা ত্যাগ করতেন যে, মনে হত তিনি (ﷺ) উক্ত মাসে আর রোজাই রাখবেন না। অনুরূপভাবে কোন মাসে এমনভাবে (একাদিক্রমে) রোজা রাখতেন যে, মনে হত তিনি ঐ মাসে আর রোজা ত্যাগই করবেন না। (তাঁর অবস্থা এরূপ ছিল যে,) যদি তুমি তাঁকে রাত্রিতে নামাজ পড়া অবস্থায় দেখতে না চাইতে, তবু বাস্তবে তাঁকে নামাজ পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে। আর তুমি যদি চাইতে যে, তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখবে না, কিন্তু বাস্তবে তুমি তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পেতে।’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ১১৪১, ১৯৭২, ১৯৭৩, মুসলিম ১১৫৮, তিরমিযী ৭৬৯, ২০১৫, নাসায়ী ১৬২৭, আগ ১১৬০১, ১১৭১৯, ১২২১৩, ১২৪২১, ১২৪৭১, ১২৬৫৪, ১২৭৬২, ১২৯৬০, ১২৯৯০, ১৩০৬১, ১৩২৩৮, ১৩৩০৪, ১৩৩৭০, ১৩৮৬, ১৩৪০৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১১৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের ভারসাম্য বর্ণনা করেছেন। কোনো মাসে তিনি এমনভাবে রোজা ছাড়তেন যে মনে হতো, আর রোজা রাখবেন না। আবার কোনো মাসে এমনভাবে রোজা রাখতেন যে মনে হতো, আর রোজা ছাড়বেন না। রাতের ব্যাপারেও একই রকম; কেউ তাঁকে নামাজে দেখতে চাইলে বাস্তবে নামাজে দেখতে পেত, আর ঘুমন্ত দেখতে চাইলে ঘুমন্তও দেখতে পেত। এখানে মূল শিক্ষা হলো ইবাদতে ভারসাম্য। ‘নবীজির রাতের নামাজ’, ‘নফল রোজা’ এবং ‘ইবাদতে মাঝামাঝি পথ’—এসব বিষয় এই হাদিসে আসে। হাদিসটি দেখায়, নফল আমলে ধারাবাহিকতা ও বৈচিত্র্য থাকতে পারে; একইভাবে ঘুম ও বিশ্রামও জীবন থেকে বাদ যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নফল রোজায় কখনো ধারাবাহিকতা, কখনো বিরতি ছিল।
- রাতের নামাজের সাথে ঘুম ও বিশ্রামের ভারসাম্যও ছিল।
- নফল আমলে নিজের সামর্থ্য ও অবস্থার দিকে খেয়াল করা যায়।
- ইবাদত মানে জীবন থেকে স্বাভাবিক প্রয়োজন বাদ দেওয়া নয়।
