১৯/১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১১৪১ - নফল রোজা ও রাতের সালাতে নববী ভারসাম্য
নবী (ﷺ)-এর ইবাদাতে রাত জাগরণ এবং তাঁর ঘুমানো আর রাত জাগার যতটুকু রহিত করা হয়েছে।
وَقَوْلُهُ تَعَالَى ﴾يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْأً وَأَقْوَمُ قِيلًا إِنَّ لَكَ فِي النَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلًا﴿ وَقَوْلُهُ ﴾عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ عَلِمَ أَنْ سَيَكُونُ مِنْكُمْ مَرْضَى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا﴿মহান আল্লাহর বাণী: “হে চাদর আবৃত রাসূল! রাতে সালাতে দণ্ডায়মান থাকুন সামান্য পরিমাণে রাত বাদ দিয়ে। অর্থ রাত্রি কিংবা তার চেয়ে কিছু কম। অথবা তার চেয়ে কিছু বৃদ্ধি করুন। আর কুরআন পাঠ করুন ধীরে ধীরে, খুব স্পষ্টভাবে। অবশ্যই আমি আপনার প্রতি অচিরেই এক গুরুভার বাণী অবতীর্ণ করছি। নিশ্চয় রাত্রি জাগরণ প্রবৃত্তি দমনে প্রবলতর এবং বক্তব্যের ব্যাপারে বিশেষ ক্রিয়াশীল। দিনের বেলায় তো রয়েছে আপনার বহু কাজ।” (সূরা মুযযাম্মিল ৭৩/১-৭)।আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “তিনি অবগত আছেন যে, তোমরা এর যথাযথ হিসাব রাখতে পার না। অতএব, তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হয়েছেন। সুতরাং কুরআনের যতটুকু তোমাদের পক্ষে পাঠ করা সহজ, ততটুকু পাঠ করো। তিনি অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশভ্রমণ করবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। অতএব, কুরআনের যতটুকু তিলাওয়াত করা সহজ, ততটুকু তোমরা তিলাওয়াত করো। আর তোমরা সালাত কায়িম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম কর্জ দাও। আর তোমরা নিজেদের মঙ্গলের জন্য যা কিছু নেক কাজ অগ্রে প্রেরণ করবে, আল্লাহর কাছে তা তোমরা পাবে তদপেক্ষা উত্তম ও শ্রেষ্ঠ পুরস্কার হিসেবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা মুযযাম্মিল ৭৩/২০)।قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا نَشْأً قَامَ بِالْحَبَشِيَّةِ وَطَاءً قَالَ مُوَاطَأَةُ الْقُرْآنِ أَشَدُّ مُوَافَقَةً لِسَمْعِهِ وَبَصَرِهِ وَقَلْبِهِ لِيُوَاطِئُوا لِيُوَافِقُوا.ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় نَشْأً শব্দটির অর্থ قَامَ (উঠে দাঁড়াল) আর وَطَاءً শব্দের অর্থ হল- কুরআনে অধিক অনুকূল। অর্থাৎ তাঁর কান, চোখ এবং হৃদয়ের অধিক অনুকূল এবং তাই তা কুরআনের মর্ম অনুধাবনে অধিকতর উপযোগী। لِيُوَاطِئُوا শব্দের অর্থ হল ‘যাতে তারা সামঞ্জস্য বিধান করতে পারে’।"
নফল রোজা ও রাতের সালাত: নবীজির ভারসাম্যপূর্ণ আমল
সহীহ বুখারী : ১১৪১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১১৪১
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسًا ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُفْطِرُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يَصُومَ مِنْهُ، وَيَصُومُ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يُفْطِرَ مِنْهُ شَيْئًا، وَكَانَ لاَ تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيْلِ مُصَلِّيًا إِلاَّ رَأَيْتَهُ وَلاَ نَائِمًا إِلاَّ رَأَيْتَهُ.تَابَعَهُ سُلَيْمَانُ وَأَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ عَنْ حُمَيْدٍ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) কোন কোন মাসে সিয়াম পালন করতেন না। এমন কি আমরা ধারণা করতাম যে, সে মাসে তিনি সিয়াম পালন করবেন না। আবার কোন কোন মাসে সিয়াম পালন করতে থাকতেন, এমন কি আমাদের ধারণা হত যে, সে মাসে তিনি সিয়াম ছাড়বেন না। তাঁকে তুমি সালাত রত অবস্থায় দেখতে চাইলে তাই দেখতে পেতে এবং ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চাইলে তাও দেখতে পেতে। সুলাইমান ও আবূ খালিদ আহ্মার (রহঃ) হুমায়দ (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মাদ ইব্নু জা’ফার (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১১৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর নফল রোজা ও রাতের সালাতের একটি সুন্দর চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কোনো মাসে রাসূল صلى الله عليه وسلم এমনভাবে সিয়াম না রাখতেন যে সাহাবীরা মনে করতেন, হয়তো তিনি এ মাসে আর রোজা রাখবেন না। আবার কোনো মাসে এমনভাবে সিয়াম রাখতেন যে মনে হতো, তিনি হয়তো আর রোজা ছাড়বেন না। এতে বোঝা যায়, নফল রোজা ছিল তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল, তবে তা এক ধরনের ভারসাম্যের সঙ্গে ছিল। একইভাবে রাতের সালাতের ক্ষেত্রেও তাঁর জীবন ছিল জীবন্ত উদাহরণ। কেউ তাঁকে রাতে সালাতরত দেখতে চাইলে পেত, আবার ঘুমন্ত দেখতে চাইলে তাও পেত। তাই এই হাদিস আমাদের শেখায়, ইবাদতে ভালোবাসা, ধারাবাহিকতা এবং শরীরের প্রয়োজন—সবকিছুর মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নফল রোজা রাখা উত্তম আমল, তবে তা ভারসাম্য রেখে করা উচিত।
- রাতের সালাত নবী صلى الله عليه وسلم-এর নিয়মিত আমলের অংশ ছিল।
- ইবাদতের পাশাপাশি ঘুম ও বিশ্রামের প্রয়োজনও অবহেলা করা ঠিক নয়।
- সুন্নাহভিত্তিক জীবন মানে অতিরিক্ত চাপ নয়, বরং নিয়মিত ও সুন্দর আমল।
