৯/২১৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১১৯৫ - ঈমান ও সাওয়াবের আশায় তারাবীহ
কিয়ামে রমযান বা তারাবীহর নামায মুস্তাহাব
তারাবীহ নামায: ঈমান ও সাওয়াবের আশায় কিয়াম
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১১৯৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১১৯৫
عن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ». متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজান মাসে কিয়াম করবে (তারাবীহ পড়বে), তার পূর্বেকার পাপসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৩৫, ৩৭, ৩৮, ১৯০১, ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪, মুসলিম ৭৬০, তিরমিযী ৬৮৩, নাসায়ী ২১৯৮ থেকে ২২০৭, ৫০২৭, আবূ দাউদ ৩১৭১, ১৩৭২, আহমাদ ৭১৩০, ৭২৩৮, ৭৭২৯, ৭৮২১, ৮৭৭৫, ৯১৮২, ৯৭৬৭, ৯৯৩১, ১০১৫৯, ১০৪৬২, ২৭৫৮৩, ২৭৬৭৫, দারেমী ১৭৭৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১১৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াবের আশায় রমযান মাসে কিয়াম করবে, অর্থাৎ তারাবীহ পড়বে, তার পূর্বেকার পাপসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। এখানে দুটি শর্ত স্পষ্টভাবে এসেছে—ঈমান এবং সাওয়াবের আশা। অর্থাৎ আমলটি শুধু অভ্যাস, লোকদেখানো বা সামাজিক রীতি হিসেবে নয়; আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও তাঁর কাছ থেকে প্রতিদানের আশায় করতে হবে। রমযানের রাতগুলোতে তারাবীহ নামায তাই মুসলিমের জন্য বিশেষ সুযোগ। তবে হাদিসের ভাষা অনুযায়ী মূল ফোকাস হলো আন্তরিক কিয়াম। রাকআতের সংখ্যা বা বাহ্যিক আলোচনা নয়, বরং ঈমান, নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশাই এই হাদিসের প্রধান শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তারাবীহ ঈমান ও সাওয়াবের আশায় আদায় করা উচিত।
- রমযানের রাতে কিয়াম গুনাহ মাফের বড় কারণ হিসেবে এসেছে।
- আমলের বাহ্যিক রূপের পাশাপাশি আন্তরিক নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ।
