৯/২১৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১১৯৬ - তারাবীহে উৎসাহ ও নেকীর আশা
কিয়ামে রমযান বা তারাবীহর নামায মুস্তাহাব
কিয়ামে রমযান: ওয়াজিব নয়, কিন্তু বড় উৎসাহের আমল
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১১৯৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১১৯৬
وَعَنْه، قَالَ: كَانَ رَسُول اللهِ ﷺ يُرَغِّبُ في قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أنْ يَأمُرَهُمْ فِيهِ بِعَزِيمَةٍ، فيَقُوْل: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إيمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ». رواه مسلم
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিয়ামে রমজান (তারাবীহ) সম্পর্কে দৃঢ় আদেশ (ওয়াজিব) না করেই, তার প্রতি উৎসাহ দান করতেন এবং বলতেন, “যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে নেকীর আশায় রমজানে কিয়াম (তারাবীহর নামাজ আদায়) করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৩৫, ৩৭, ৩৮, ১৯০১, ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪, মুসলিম ৭৬০, তিরমিযী ৬৮৩, নাসায়ী ২১৯৮ থেকে ২২০৭, ৫০২৭, আবূ দাউদ ৩১৭১, ১৩৭২, আহমাদ ৭১৩০, ৭২৩৮, ৭৭২৯, ৭৮২১, ৮৭৭৫, ৯১৮২, ৯৭৬৭, ৯৯৩১, ১০১৫৯, ১০৪৬২, ২৭৫৮৩, ২৭৬৭৫, দারেমী ১৭৭৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১১৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কিয়ামে রমযান বা তারাবীহ সম্পর্কে দৃঢ় ওয়াজিব আদেশ না করেই মানুষকে উৎসাহ দিতেন। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে এবং নেকীর আশায় রমযানে কিয়াম করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এখানে একদিকে তারাবীহর গুরুত্ব এসেছে, অন্যদিকে এটিকে কঠোর বাধ্যতামূলক রূপে চাপিয়ে না দেওয়ার দিকও দেখা যায়। তাই এই হাদিস তারাবীহ নামাযের ফজিলত বোঝায়, কিন্তু একই সঙ্গে আমলে সহজতা ও আন্তরিকতার কথাও শেখায়। রমযানের রাতে দাঁড়ানো শুধু শারীরিক কাজ নয়; এতে ঈমান, আশা, আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং নেকী লাভের ইচ্ছা থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তারাবীহর প্রতি উৎসাহ দিতেন।
- তারাবীহ ঈমান ও নেকীর আশায় আদায় করা উচিত।
- ইবাদতে উৎসাহ থাকবে, তবে অযথা কঠোরতা চাপানো ঠিক নয়।
