৯/২১৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১২২১ - যাকাত ও মুসলিমের মঙ্গল কামনা
যাকাতের অপরিহার্যতা এবং তার ফযীলত
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ ٤٣﴿(البقرة: ٤٣)অর্থাৎ তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা ও যাকাত আদায় কর। (বাকারাহ ৪৩ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ۚ وَذَٰلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ﴿ (البينة: ٥অর্থাৎ তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বি-শুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠ-ভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং নামায কায়েম করতে ও যাকাত প্রদান করতে। আর এটাই সঠিক ধর্ম। (বাইয়েনাহ ৫ আয়াত)তিনি অন্যত্র আরও বলেছেন,﴾ خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا﴿ [التوبة: ١٠٣]অর্থাৎ তুমি তাদের ধন-সম্পদ হতে সদকা গ্রহণ কর, যার দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশোধিত করে দেবে। (সূরা তওবা ১০৩ আয়াত)
যাকাত আদায় ও মুসলিমের মঙ্গল কামনা: ঈমানি অঙ্গীকারের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/১২২১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/১২২১
وَعَن جَرِيرِ بْنِ عَبدِ اللهِ رضي الله عنه، قَالَ: بَايَعْتُ النَّبِيَ ﷺ عَلَى إقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ. متفقٌ عَلَيْهِ
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ’নবী (ﷺ)-এর হাতে নামাজ কায়েম করার, যাকাত আদায় করার ও প্রতিটি মুসলিমের মঙ্গল কামনা করার বায়’আত করেছি।’ (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৫৭, ৫৮, ৫২৪, ১৪০১, ২১৫৭, ২৭১৪, ২৭১৫, ৭২০৪, ৫৬, তিরমিযী ১৯২৫, নাসায়ী ৪১৫৬, ৪১৫৭, ৪১৭৪, ৪১৭৫, ৪১৭৭, ৪১৮৯, আহমাদ ১৮৬৭১, ১৮৭০০, ১৮৭৩৪ম ১৮৭৪৩, ১৮৭৬০, দারেমী ২৫৪০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১২২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) তাঁর বায়আতের কথা বলেছেন। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর হাতে তিনটি বিষয়ে অঙ্গীকার করেছিলেন: নামাজ কায়েম করা, যাকাত আদায় করা এবং প্রতিটি মুসলিমের মঙ্গল কামনা করা। এখানে যাকাত শুধু অর্থ দেওয়ার বিষয় নয়; এটি আল্লাহর হক আদায়ের একটি বড় নিদর্শন। একই সঙ্গে নামাজ কায়েম করা ও মুসলিম ভাই-বোনের ভালো চাওয়া—এই তিনটি বিষয় একসাথে এসেছে। তাই হাদিসটি আমাদের শেখায়, ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত কাজ নয়; এর সঙ্গে মানুষের কল্যাণের মনও জড়িত। মুমিনের জীবন নামাজ, যাকাত ও নসীহতের ভারসাম্যে সুন্দর হয়। এই বায়আত মুমিনকে নিজের ইবাদত ঠিক করার পাশাপাশি অন্য মুসলিমের জন্য ভালো মন রাখতে উৎসাহ দেয়। এই তিন কাজ একসঙ্গে থাকলে দীন ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও পরিষ্কার হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজ কায়েম করা মুসলিম জীবনের বড় অঙ্গীকার।
- যাকাত আদায় করা সম্পদের হক পূরণের অংশ।
- প্রতিটি মুসলিমের মঙ্গল কামনা করা ঈমানি চরিত্রের লক্ষণ।
- ইবাদত ও মানুষের কল্যাণ—দুই দিকই মুমিনের জীবনে থাকা দরকার।
