২৫/১৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯২৫ - নামাজ, যাকাত ও মুসলিমের কল্যাণ কামনা
উপদেশ দেওয়া বা কল্যাণ কামনা
নামাজ, যাকাত ও মুসলিমের কল্যাণ কামনা: ঈমানি অঙ্গীকারের তিন দিক
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯২৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯২৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَلَى إِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে নামাজ বাস্তবায়ন, যাকাত আদায় এবং প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনার শপথ (বাই‘আত) করেছি।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন সাহাবি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে তিনটি বিষয়ের ওপর বাইআত বা অঙ্গীকার করার কথা বলেছেন। প্রথমটি নামাজ কায়েম করা। অর্থাৎ নামাজকে জীবনের নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে পালন করা। দ্বিতীয়টি যাকাত আদায় করা। এতে সম্পদের নির্ধারিত হক যথাযথভাবে দেওয়ার দায়িত্ব সামনে আসে। তৃতীয়টি প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করা। এই অংশটি দেখায়, ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত কাজ নয়; অন্য মুসলিমের ভালো চাওয়াও দ্বীনি চরিত্রের অংশ। নামাজ মানুষের আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় করে, যাকাত সম্পদের দায়িত্ব মনে করায়, আর কল্যাণকামিতা মুসলিম সমাজে আন্তরিকতা গড়ে তোলে। হাদিসটি সংক্ষিপ্ত হলেও জীবনকে তিন দিকে সাজায়—ইবাদত, আর্থিক দায়িত্ব এবং মানুষের প্রতি সৎ মনোভাব। এসব অঙ্গীকার কথায় নয়, নিয়মিত কাজে প্রকাশ করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজ কায়েম করা মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।
- যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
- প্রত্যেক মুসলিমের ভালো ও কল্যাণ কামনা করা উচিত।
- ইবাদত ও সামাজিক আন্তরিকতা একসঙ্গে ধরে রাখা দরকার।
