২৫/১৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯২৬ - দ্বীন হলো আন্তরিক কল্যাণ কামনা
উপদেশ দেওয়া বা কল্যাণ কামনা
দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা: আল্লাহ, কিতাব ও মুসলিমদের প্রতি আন্তরিকতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯২৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯২৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " الدِّينُ النَّصِيحَةُ " . ثَلاَثَ مِرَارٍ . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَنْ قَالَ " لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَتَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَجَرِيرٍ وَحَكِيمِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ وَثَوْبَانَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ধর্ম হচ্ছে কল্যাণ কামনার নাম। একথাটি তিনি তিনবার বললেন। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! কার কল্যাণ কামনা করা? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্, তাঁর গ্রন্থের, মুসলমানদের নেতৃবর্গের এবং মুসলমান সর্বসাধারণের।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। ইবনু উমার, তামীম আদ-দারী, জারীর, হাকীম ইবনু আবী ইয়াযীদ তার পিতার সূত্রে এবং সাওবান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তিনবার বলেছেন, দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা। পুনরাবৃত্তি থেকে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়। সাহাবিগণ জানতে চাইলেন, কার জন্য এই কল্যাণকামিতা? উত্তরে আল্লাহ, তাঁর কিতাব, মুসলিমদের নেতৃবর্গ এবং সাধারণ মুসলিমদের কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি শেখায়, দ্বীনি জীবন শুধু নিজের ইবাদত নিয়ে সীমাবদ্ধ নয়; বিশ্বাস, কিতাবের প্রতি আন্তরিকতা এবং মুসলিম সমাজের ভালো চাওয়াও এর অংশ। কল্যাণ কামনা মানে কারও ক্ষতি না চাওয়া, ভালো কথা বলা এবং উপকারের উদ্দেশ্যে সৎ মনোভাব রাখা। নেতৃবর্গ ও সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণ চাওয়ার কথা একসঙ্গে আসায় বোঝা যায়, সমাজের সব স্তরের মানুষ এই দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। তবে হাদিসে যেসব পক্ষের নাম এসেছে, ব্যাখ্যাও সেগুলোর মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত। মূল শিক্ষা হলো—দ্বীনের সঙ্গে আন্তরিক শুভকামনা ও দায়িত্বশীল আচরণ গভীরভাবে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের একটি বড় অংশ হলো আন্তরিক কল্যাণ কামনা।
- আল্লাহ ও তাঁর কিতাবের প্রতি আন্তরিক থাকা দরকার।
- মুসলিম নেতৃবর্গ ও সাধারণ মানুষের ভালো চাওয়া উচিত।
- কল্যাণকামিতা কথা, মনোভাব ও আচরণে প্রকাশ করা দরকার।
