২৫/২৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৩৮ - মানুষের মাঝে মীমাংসার জন্য ভালো কথা
পরস্পরের মাঝে সংশোধন করা
মানুষের মাঝে মীমাংসা: ভালো কথা বলে সম্পর্ক ঠিক করার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯৩৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯৩৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّهِ أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ عُقْبَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " لَيْسَ بِالْكَاذِبِ مَنْ أَصْلَحَ بَيْنَ النَّاسِ فَقَالَ خَيْرًا أَوْ نَمَى خَيْرًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
উম্মু কুলসুম বিনতু উকবা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি লোকদের মাঝে সংশোধন করার চেষ্টা করে সে মিথ্যাবাদী নয়। সে (যা বলেছে) ভাল বলেছে অথবা ভালকাজের অগ্রগতি ঘটিয়েছে।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক করার জন্য চেষ্টা করা ব্যক্তিকে মিথ্যাবাদী বলা হয়নি। কারণ সে ভালো কথা বলে অথবা ভালো কথাকে এগিয়ে দিয়ে মীমাংসার পথ তৈরি করে। এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানো, বিরোধ কমানো এবং মানুষের মাঝে ভালো পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। হাদিসটি এমন কথা বলার অনুমতি দেয় না, যা নতুন ক্ষতি, প্রতারণা বা অন্যায় তৈরি করে। বরং যে কথা দুপক্ষের মন নরম করে, ভুল বোঝাবুঝি কমায় এবং ভালো সম্পর্কের অগ্রগতি ঘটায়, সেটিই বর্ণনার কেন্দ্র। মীমাংসাকারীর নিজের স্বার্থ নয়, মানুষের ভালো চাওয়া দরকার। কারও উত্তেজনাপূর্ণ কথা আরেকজনের কাছে পৌঁছে বিরোধ বাড়ানোর বদলে, ভালো দিকটি তুলে ধরে শান্তির সুযোগ তৈরি করা এই শিক্ষার সঙ্গে মানানসই। তাই কথার ব্যবহার দিয়ে সম্পর্ক ভাঙা নয়, সম্পর্ক গড়াই এখানে মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা করা প্রশংসনীয় কাজ।
- ভালো কথা বলা ও ভালো কথাকে এগিয়ে দেওয়া সম্পর্ক ঠিক করতে সাহায্য করে।
- মীমাংসার উদ্দেশ্য হতে হবে বিরোধ কমানো, নতুন ক্ষতি তৈরি করা নয়।
- উসকানি ছড়ানোর বদলে শান্তির সুযোগ তৈরি করা উচিত।
