২৫/২৬. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৩৯ - তিন ক্ষেত্রে কথার বিশেষ অনুমতি

পরস্পরের মাঝে সংশোধন করা

তিন ক্ষেত্রে মিথ্যার অনুমতি: দাম্পত্য, যুদ্ধ ও মীমাংসার সীমিত বিধান

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، وَأَبُو أَحْمَدَ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ يَحِلُّ الْكَذِبُ إِلاَّ فِي ثَلاَثٍ يُحَدِّثُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ لِيُرْضِيَهَا وَالْكَذِبُ فِي الْحَرْبِ وَالْكَذِبُ لِيُصْلِحَ بَيْنَ النَّاسِ " . وَقَالَ مَحْمُودٌ فِي حَدِيثِهِ " لاَ يَصْلُحُ الْكَذِبُ إِلاَّ فِي ثَلاَثٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ أَسْمَاءَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ خُثَيْمٍ.وَرَوَى دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ أَسْمَاءَ. حَدَّثَنَا بِذَلِكَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ. وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ.

আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত মিথ্যা বলা বৈধ নয়।(এক) স্ত্রীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে তার সাথে স্বামীর কিছু বলা,(দুই) যুদ্ধের সময় এবং(তিন) লোকদের পরস্পরের মাঝে সংশোধন করার জন্য মিথ্যা কথা বলা।অধস্তন রাবী মাহমূদ তার হাদীসে বলেছেন, তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোথাও মিথ্যা বলা ঠিক নয়।

“স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য” এই অংশ ব্যতীত হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন উম্মু কুলসুম হতে। এ হাদীসটি হাসান। ইবনু খুসাইমের সূত্র ব্যতীত আসমা (রাঃ) বর্ণিত এ হাদীস আমরা অন্য কোন সূত্রে অবহিত নই। দাঊদ ইবনু আবূ হিন্দ-শাহ্‌র ইবনু হাওশাবের বরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে আসমা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। মুহাম্মাদ ইবনুল আলা-ইবনু আবূ যাইদা-দাঊদ সূত্রে উক্ত হাদীস আমার নিকট এ রকম বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে আবূ বাক্‌র (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৩৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মিথ্যা কথার সাধারণ অনুমতি দেওয়া হয়নি; বরং তিনটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটি হলো স্বামী স্ত্রীর মন খুশি করার উদ্দেশ্যে কিছু বলা। দ্বিতীয়টি যুদ্ধের সময়। তৃতীয়টি মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক করার জন্য কথা বলা। বর্ণনার আরেক শব্দে বলা হয়েছে, এই তিন ক্ষেত্র ছাড়া মিথ্যা বলা ঠিক নয়। তাই হাদিসটির সীমা খুব স্পষ্ট এবং এটিকে দৈনন্দিন সুবিধা, ব্যবসা, প্রতারণা বা নিজের ভুল ঢাকার সাধারণ অজুহাত বানানো যায় না। তিন ক্ষেত্রের প্রতিটিতেই একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে—দাম্পত্যে মন রাখা, যুদ্ধে প্রয়োজন এবং মানুষের বিরোধ মেটানো। বিশেষ করে মীমাংসার ক্ষেত্রে ভালো ফল ঘটানোই উদ্দেশ্য। হাদিস থেকে শেখা যায়, সত্যবাদিতা সাধারণ নিয়ম; উল্লেখিত তিন ক্ষেত্র একটি সীমিত ব্যতিক্রম হিসেবে এসেছে। সেই সীমা অতিক্রম না করাই সতর্কতার পথ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মিথ্যা বলার অনুমতি সাধারণ নয়; হাদিসে তিনটি ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
  • স্ত্রীকে খুশি করা, যুদ্ধ ও মানুষের মীমাংসা—এই তিন ক্ষেত্রই বর্ণনায় এসেছে।
  • ব্যক্তিগত সুবিধা বা প্রতারণার জন্য এই অনুমতি ব্যবহার করা যায় না।
  • সত্যবাদিতাই সাধারণ নিয়ম, আর ব্যতিক্রমের সীমা মানা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন