২৫/২৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৩৭ - মুসলিমদের মধ্যে শয়তানের উসকানি
পরস্পরের বিরুদ্ধে হিংসা ও শত্রুতা পোষণ করা
শয়তানের উসকানি থেকে সাবধান: নামাজিদের মধ্যে বিরোধের ফাঁদ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯৩৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯৩৭
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ يَئِسَ أَنْ يَعْبُدَهُ الْمُصَلُّونَ وَلَكِنْ فِي التَّحْرِيشِ بَيْنَهُمْ " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَسُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ عَنْ أَبِيهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَأَبُو سُفْيَانَ اسْمُهُ طَلْحَةُ بْنُ نَافِعٍ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নামাজ আদায়কারী কখনো শয়তানের পূজা করবে (সিজদা দিবে) এ বিষয়ে সে নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু সে তাদের মধ্যে একজনকে অন্যজনের বিরুদ্ধে উস্কানি দিতে নিরাশ হয়নি।
আনাস ও সুলাইমান ইবনু আমর ইবনু আহওয়াহ (রাঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। আবূ সুফিয়ানের নাম তালহা, পিতা নাফি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানিয়েছেন, নামাজ আদায়কারীরা শয়তানের পূজা করবে—এ বিষয়ে শয়তান নিরাশ হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে একজনকে আরেকজনের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার চেষ্টা থেকে সে নিরাশ হয়নি। অর্থাৎ ইবাদতকারী মানুষের মাঝেও বিরোধ, ঝগড়া ও পারস্পরিক শত্রুতা তৈরি করা শয়তানের একটি বড় কৌশল। হাদিসটি নামাজি হওয়াকে ছোট করে না; বরং নামাজের পাশাপাশি সম্পর্ক রক্ষায় সতর্ক হতে বলে। কারও কথা শুনে দ্রুত রেগে যাওয়া, যাচাই না করে বিরোধে জড়ানো বা মানুষের মধ্যে আগুন ধরানো এই উসকানির সুযোগ বাড়াতে পারে। তাই মতভেদ হলে ধীর হওয়া, কথা যাচাই করা এবং সম্পর্ক ভাঙার বদলে মীমাংসার চেষ্টা করা দরকার। শয়তানের লক্ষ্য যখন মানুষকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো, তখন মুসলিমের দায়িত্ব হলো সেই ফাঁদ চিনে ঐক্য ও শান্তি রক্ষা করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শয়তান নামাজিদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
- উসকানিমূলক কথা শুনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া না দেওয়াই ভালো।
- মতভেদে সম্পর্ক ভাঙার বদলে মীমাংসার পথ খোঁজা উচিত।
- ইবাদতের পাশাপাশি মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্কও রক্ষা করতে হয়।
