৯/২২৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১২৪৯ - মিথ্যা কথা ও রোজার শিক্ষা
রোজাদার নিজ জিভ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে রোযার পরিপন্থী ক্রিয়াকলাপ তথা গালি-গালাজ ও অনুরূপ অন্য অপকর্ম থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।
মিথ্যা কথা ছাড়াই রোজার আসল শিক্ষা পূর্ণ হয়
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১২৪৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১২৪৯
وَعَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ: ﷺ«مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ للهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ». رواه البخاري
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও তার উপর আমল করা পরিহার না করল, তখন আল্লাহর কোন দরকার নেই যে, সে তার পানাহার ত্যাগ করুক।” (বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ১৯০৩, ৬০৫৭, তিরমিযী ৭০৭, আবূ দাউদ ২৩৬২, ইবনু মাজাহ ১৬৮৯, আহমাদ ১৫২৯, ১০১৮৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১২৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم রোজার নৈতিক দিকটি খুব শক্তভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা এবং সেই মিথ্যার উপর কাজ করা ছাড়ল না, আল্লাহর তার পানাহার ত্যাগের দরকার নেই। এর অর্থ হলো, রোজা শুধু না খেয়ে থাকা নয়; রোজা মানুষকে সত্যবাদী, সংযত ও সৎ হতে শেখায়। এখানে রোজাদারকে সতর্ক করা হয়েছে—মুখে মিথ্যা বলা, ভুল কাজ করা এবং আচরণে অসততা রাখা রোজার উদ্দেশ্যের সঙ্গে যায় না। হাদিসটি আমাদের মনে করায়, রমজান বা নফল রোজা—যে রোজাই হোক, তা মানুষের চরিত্রে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করা উচিত। মিথ্যা কথা, রোজার আদব এবং আমলের শুদ্ধতা—এই হাদিসের মূল বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজা রাখার সঙ্গে মিথ্যা কথা ছাড়ার চেষ্টা জরুরি।
- শুধু পানাহার ত্যাগ করাই রোজার পূর্ণ শিক্ষা নয়।
- রোজা মানুষের কথা ও কাজকে সৎ করার শিক্ষা দেয়।
