৯/২৩১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১২৭৪ - রোজাদারের সামনে খাবার খাওয়ার সময়
রোজাদারকে ইফতার করানোর ফযীলত এবং যে রোজাদারের নিকট কিছু ভক্ষণ করা হয় তার ফযীলত এবং যার নিকট ভক্ষণ করা হয় তার জন্য ভক্ষণকারীর দো‘আ.
রোজাদারের সামনে খাবার: ফেরেশতাদের ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১২৭৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১২৭৪
وَعَنْ أُمِّ عُمَارَةَ الأَنْصَارِيَّةِ رَضِيَ اللَّه عَنْهَا، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ عَلَيْهَا، فَقَدَّمَتْ إِلَيْهِ طَعَاماً، فَقَالَ: كُلِيْ» فَقَالَتْ: إِنِّيْ صَائِمَةٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ : «إِنَّ الصَّائِمَ تُصَلِّيْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ إِذا أُكِلَ عِنْدَهُ حَتّىٰ يَفْرَغُوْا» وَرُبَّمَا قَالَ: حَتّىٰ يَشْبَعُوْا» رواهُ الترمذيُّ وقال: حديثٌ حسنٌ.
উম্মু ‘উমারা আল-আনসারিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) কোন একদিন তাঁর নিকট গেলেন। তাঁর সামনে তিনি খাবার রাখলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, তুমিও খাও। তিনি বললেন, আমি তো রোজাদার। নবী (ﷺ) বললেন, রোজাদারের সামনে যখন খাবার আহার-কারীদের খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বা পেট ভরে না খাওয়া পর্যন্ত তাঁর (রোজাদারের) জন্য ফেরেশতারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। (ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন)[১]
হাদীসটি দুর্বল। আমি (আলবানী) বলছি : তিরমিযীর কোন কোন কপিতে হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলা হয়েছে। আর এ সবগুলোর ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। আমি এ সম্পর্কে “য‘ঈফাহ্” গ্রন্থে (নং ১৩৩২) আলোচানা করেছি। শু‘য়াইব আলআরনাউতও “মুসনাদু আহমাদ” গ্রন্থে (২৬৫২০, ২৬৫২১) হাদীসটির সনদকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। এর সনদের বর্ণনাকারী লাইলাকে চেনা যায় না। হাফিয যাহাবী তাকে “আননিসওয়াতুল মাজহূলাত” অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন : তার থেকে শুধুমাত্র হাবীব ইবনু যায়েদ বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য সওম পালনকারীদের ইফতার করার সময় ফেরেশতারা রহমাত কামনা করে দু‘আ করতে থাকেন। এ মর্মে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম হতে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (“সহীহ্ আবী দাঊদ” (৩৮৫৪) ও “সহীহ্ ইবনু মাজাহ্” (১৭৪৭))। তবে আলোচ্য হাদীসটি মওকূফ হিসেবে সহীহ্ সূত্রে সংক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ভাষায় আবূ আইঊব (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছেঃ الصائم إذا أكل عنده صلت عليه الملائكة অর্থাৎ ‘সওম পালনকারী ব্যক্তির নিকট খাওয়া হলে ফেরেশতারা রহমাত কামনা করে তার জন্য দু‘আ করে।’ যা মারফূ‘র হুকুম বহন করে। তবে অতিরিক্ত অংশ সহকারে হাদীসটি দুর্বল যেমনটি তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে। (বিস্তারিত দেখুন “য‘ঈফাহ্” (১৩৩২))। আল্লাহই বেশী জানেন।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১২৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু আমারাহ আনসারিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার একটি ঘটনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কাছে গেলে তিনি খাবার পেশ করেন। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে খেতে বললে তিনি বলেন, তিনি রোজাদার। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, রোজাদারের সামনে যখন খাবার খাওয়া হয়, খাওয়ার লোকেরা শেষ করা পর্যন্ত বা পেট ভরে খাওয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা রোজাদারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। এই হাদিস রোজাদারের মর্যাদা এবং ধৈর্যের সুন্দর দিক তুলে ধরে। এখানে লক্ষ্য করার বিষয়, রোজাদার নিজে না খেয়ে অন্যদের খাবার পেশ করেছেন। তাই এই বর্ণনা রোজা, আতিথেয়তা এবং ধৈর্য—তিনটি বিষয়ের শিক্ষা দেয়। তবে হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত ফজিলত যোগ করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজাদারের সামনে খাবার খাওয়া হলে ফেরেশতাদের ক্ষমা প্রার্থনার কথা এসেছে।
- রোজাদার অবস্থায় ধৈর্য ও সংযমের শিক্ষা পাওয়া যায়।
- অতিথিকে খাবার দেওয়া ভালো আচরণের অংশ।
- রোজাদারের মর্যাদা হাদিসে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
