১/১৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১৩০ - জুমআর খুতবা শোনার আদব
পুণ্যের পথ অনেক
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ ﴿ [البقرة: ٢١٥]অর্থাৎ “তোমরা যে কোন সৎকাজ কর না কেন, আল্লাহ তা সম্যকরূপে অবগত।” (সূরা বাক্বারা ২১৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يَعۡلَمۡهُ ٱللَّهُۗ ﴿ [البقرة: ١٩٧]অর্থাৎ “তোমরা যে সৎকাজ কর, আল্লাহ তা জানেন।” (আল-বাক্বারাহঃ ১৯৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ ﴿ [الزلزلة: ٧]অর্থাৎ “কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করে থাকলেও সে তা দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا فَلِنَفۡسِهِۦۖ ﴿ [الجاثية: ١٥]অর্থাৎ “যে সৎকাজ করে, সে নিজ কল্যাণের জন্যই তা করে।” (সূরা জাসিয়াহ ১৫ আয়াত)এ বিষয়ে আয়াত অনেক রয়েছে এবং হাদীসও অগণিত রয়েছে। তার মধ্যে কিছু আমরা বর্ণনা করব।
জুমআর খুতবা শোনার আদব: ওজু, নীরবতা ও মনোযোগ
রিয়াদুস সালেহীন : ১২/১৩০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/১৩০
الثاني عشر: عنه قال: قال رسول الله ﷺ: «من توضأ فأحسن الوضوء، ثم أتى الجمعة، فاستمع وأنصت، غفر له ما بينه وبين الجمعة وزيادة ثلاثة أيام، ومن مس الحصا فقد لغا» (رواه مسلم).
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ’’যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওজু করল, অতঃপর জুমআহ পড়তে এল এবং মনোযোগ সহকারে নীরব থেকে খুতবাহ শুনল, সে ব্যক্তির এই জুমআহ ও (আগামী) জুমআর মধ্যেকার এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (ছোট) পাপসমূহ মাফ করে দেওয়া হল। আর যে ব্যক্তি (খুতবাহ চলাকালীন সময়ে) কাঁকর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কর্ম করল।’’ (অর্থাৎ সে জুমআর সওয়াব বরবাদ করে দিল।)[১]
মুসলিম ৫৮৭, তিরমিযী ৪৯৮, আবূ দাউদ ১০৫০, ইবনু মাজাহ ১০১০, আহমাদ ৯২০০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমআর দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদব একসঙ্গে এসেছে। যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওজু করে, তারপর জুমআ পড়তে আসে এবং মনোযোগ দিয়ে নীরব থেকে খুতবা শোনে, তার জন্য এই জুমআ থেকে পরের জুমআ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের ছোট পাপ মাফের কথা বলা হয়েছে। তবে হাদিসে সতর্কতাও আছে—খুতবার সময় কাঁকর স্পর্শ করাকে অনর্থক কাজ বলা হয়েছে। সে সময় মসজিদের মেঝেতে কাঁকর থাকতে পারত; মূল শিক্ষা হলো খুতবার সময় অযথা ব্যস্ত না হয়ে মনোযোগ রাখা। তাই জুমআর খুতবা শোনা শুধু উপস্থিত থাকা নয়; বরং নীরবতা, মনোযোগ ও আদবের সঙ্গে অংশ নেওয়া। তাই জুমআর দিনে শরীরের পবিত্রতা, মনের মনোযোগ এবং খুতবার আদব—সবই একসঙ্গে রক্ষা করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমআর আগে সুন্দরভাবে ওজু করা গুরুত্বপূর্ণ।
- খুতবা মনোযোগ দিয়ে নীরবে শোনা জুমআর আদব।
- খুতবার সময় অযথা কাজে ব্যস্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- কাবীরা থেকে বাঁচার সঙ্গে ছোট পাপ মাফের আশা রাখা যায়।
