১৭/২৫২. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫০৪ - জাযাকাল্লাহু খায়রা বলার ফজিলত
দো‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
জাযাকাল্লাহু খায়রা: উপকারের জবাবে সুন্দর দোয়া
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৫০৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৫০৪
وَعَنْ أُسَامَةَ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ : «مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ، فَقَالَ لِفاعِلهِ: جَزَاكَ اللهُ خَيراً، فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তির জন্য কোন উপকার করা হল এবং সে উপকারকারীকে ’জাযাকাল্লাহু খায়রা’ (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দেন) বলে দোয়া দিল, সে নিঃসন্দেহে (উপকারীর) পূর্ণাঙ্গরূপে প্রশংসা করল।”(তিরমিযী হাসান সহীহ)[১]
তিরমিযী ২০৩৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উপকারের জবাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সহজ ও সুন্দর ভাষা শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কারো প্রতি উপকার করা হলে সে যদি উপকারকারীকে ‘জাযাকাল্লাহু খায়রা’ বলে, তাহলে সে পূর্ণভাবে প্রশংসা করল। এর অর্থ হলো, ‘আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন।’ এখানে শুধু মুখে ধন্যবাদ দেওয়ার কথা নয়; বরং উপকারীর জন্য আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান চাওয়া হয়েছে। এতে কৃতজ্ঞতা, দোয়া এবং সুন্দর আচরণ একসাথে মিলেছে। যারা আমাদের সাহায্য করেন, তাদের প্রতি ভালো কথা বলা এবং তাদের জন্য দোয়া করা ইসলামী আদবের অংশ। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ছোট একটি বাক্যও সম্পর্ককে সুন্দর করতে পারে এবং উপকারীর মর্যাদা স্বীকার করার ভালো উপায় হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উপকার পেলে উপকারীর জন্য ‘জাযাকাল্লাহু খায়রা’ বলা সুন্দর আদব।
- কৃতজ্ঞতা শুধু ধন্যবাদ নয়; উপকারীর জন্য দোয়াও হতে পারে।
- উত্তম প্রতিদানের দায়িত্ব আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা ভালো প্রশংসা।
- ভালো আচরণের জবাবে ভালো কথা বলা মুসলিম চরিত্রের অংশ।
