১৮/২৫৪. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৪/১৫৩২ - রক্ত, মাল ও সম্ভ্রমের মর্যাদা

গীবত (পরনিন্দা) নিষিদ্ধ এবং বাক্ সংযমের নির্দেশ ও গুরুত্ব

মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ ﴿ (الحجرات: ١٢অর্থাৎ তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।(সূরা হুজুরাত ১২ আয়াত)তিনি বলেছেন,﴾وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴿ (الاسراء: ٣٦অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হইয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বনী ইসরাইল ৩৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ﴿(ق: ١٨অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে (তা লিপিবদ্ধ করার জন্য) তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে।(সূরা ক্বাফ ১৮ আয়াত)জেনে রাখুন যে, যে কথায় উপকার আছে বলে স্পষ্ট হয়, সে কথা ছাড়া অন্য সব (অসঙ্গত) কথা হতে নিজ জিহ্বাকে সংযত রাখা প্রত্যেক ভারপ্রাপ্ত মুসলিম ব্যক্তির উচিত। যেখানে কথা বলা ও চুপ থাকা দুটোই সমান, সেখানে চুপ থাকাটাই সুন্নত। কেননা, বৈধ কথাবার্তাও অনেক সময় হারাম অথবা মাকরূহ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। অধিকাংশ এরূপই ঘটে থাকে। আর (বিপদ ও পাপ থেকে) নিরাপত্তার সমতুল্য কোন বস্তু নেই।

মুসলিমের রক্ত, মাল ও সম্ভ্রমের মর্যাদা: বিদায়ী হজ্জের শিক্ষা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৪/১৫৩২

وَعَنْ أَبي بَكْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ قَالَ فِي خُطْبَتِهِ يَوْمَ النَّحْرِ بِمِنًى فِي حَجَّةِ الوَدَاعِ: «إِنَّ دِمَاءَكُمْ، وَأَمْوَالَكُمْ، وَأَعْرَاضَكُمْ، حَرَامٌ عَلَيْكُمْ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ». متفق عَلَيْهِ

আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বিদায়ী হজ্জে মিনায় ভাষণ দানকালে বলেছেন, “নিশ্চয় তোমাদের রক্ত, তোমাদের মাল এবং তোমাদের সম্ভ্রম তোমাদের (আপসের মধ্যে) এ রকমই হারাম, যেমন তোমাদের এ দিনের সম্মান তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে রয়েছে। শোন! আমি কি পৌঁছে দিলাম?” (বুখারী-মুসলিম) [১]

সহীহুল বুখারী ৬৭, ১০৫, ১৪৪১, ৩১৯৭, ৪৪০৬, ৪৬৬২, ৫৫৫০, ৭০৭৮, ৭৪৪৭, মুসলিম ১৬৭৯, ইবনু মাজাহ ২৩৩, আহমাদ ১৯৮৭৩, ১৯৮৯৪, ১৯৯৩৬, ১৯৯৮৫, দারেমী ১৯১৬

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৪/১৫৩২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বিদায়ী হজ্জে মিনায় ভাষণ দিতে গিয়ে মুসলিমের রক্ত, মাল এবং সম্ভ্রমের পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, এগুলো তোমাদের মধ্যে হারাম, যেমন সেই দিন, সেই মাস এবং সেই শহরের সম্মান রয়েছে। এখানে সম্ভ্রম বা সম্মান রক্ষার বিষয়টি গীবত ও বাক্ সংযমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কাউকে হত্যা করা, তার সম্পদ অন্যায়ভাবে নেওয়া যেমন হারাম, তেমনি তার সম্মান নষ্ট করাও গুরুতর ব্যাপার। কথার মাধ্যমে মানুষের সম্ভ্রম নষ্ট হয়—গীবত, অপবাদ, তাচ্ছিল্য ও লাঞ্ছনা এর উদাহরণ। তাই এই হাদিস শুধু শারীরিক ক্ষতি থেকে নিষেধ করে না; মানুষের সম্মানকে নিরাপদ রাখতেও শিক্ষা দেয়। শেষে নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি পৌঁছে দিয়েছেন—এটি নির্দেশনার গুরুত্ব বোঝায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুসলিমের রক্ত, মাল ও সম্মান রক্ষা করা জরুরি।
  • সম্ভ্রম নষ্ট করা কথার মাধ্যমেও হতে পারে।
  • বিদায়ী হজ্জের ভাষণে এই অধিকারগুলো জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন