১৮/২৫৫. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৫৩৮ - অনুপস্থিত ভাইয়ের পক্ষে ভালো কথা
গীবতে [পরচর্চায়] অংশগ্রহণ করা হারাম। যার নিকট গীবত করা হয় তার উচিত গীবতকারীর তীব্র প্রতিবাদ করা এবং তার সমর্থন না করা। আর তাতে সক্ষম না হলে সম্ভব হলে উক্ত সভা ত্যাগ করে চলে যাওয়া
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾ وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ﴿[القصص: ٥٥]“ওরা যখন অসার বাক্য শ্রবণ করে তখন ওরা তা পরিহার করে চলে।”(সূরা কাসাস ৫৫ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ﴿[المؤمنون : ٣]অর্থাৎ যারা অসার ক্রিয়া-কলাপ হতে বিরত থাকে।(সূরা মু‘মিনূন ৩ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴿[الاسراء: ٣٦]অর্থাৎ নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বনী ইসরাঈল ৩৬ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾ وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ﴿ [الانعام: ٦٨]অর্থাৎ তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দূরে সরে পড়; যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে, তাহলে স্মরণ হওয়ার পরে তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না।(সূরা আন‘আম ৬৮ আয়াত)
অনুপস্থিত ভাইয়ের পক্ষে ভালো কথা বলা: কা’ব বিন মালেক রা.-এর ঘটনা
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/১৫৩৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১৫৩৮
وَعَنْ كَعْبِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه فِي حَدِيثِهِ الطَّوِيلِ فِي قِصَّةِ تَوْبَتِهِ وَقَدْ سَبَقَ فِي بَابِ التَّوبَةِ. قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ جَالِسٌ فِي القَومِ بِتَبُوكَ : «مَا فَعَلَ كَعْبُ بنُ مَالِكٍ؟» فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ! حَبَسَهُ بُرْدَاهُ وَالنَّظَرُ فِي عِطْفَيْهِ. فَقَالَ لَهُ مُعاذُ بنُ جَبَلٍ: بِئْسَ مَا قُلْتَ، وَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ مَا عَلِمنَا عَلَيْهِ إِلاَّ خَيْراً، فَسَكَتَ رَسُول اللهِ ﷺ.متفقٌ عَلَيْهِ
কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যা তওবা পরিচ্ছেদে ২২ নম্বরে সুদীর্ঘ হাদিস তাঁর তাওবার কাহিনী অতিবাহিত হয়েছে, তিনি বলেন, তাবূক পৌঁছে যখন নবী (ﷺ) লোকদের মাঝে বসে ছিলেন, তখন আমার ব্যাপারে বললেন, ’’কা’ব বিন মালেকের কি হয়েছে?’’ বানু সালেমাহ [গোত্রের] একটি লোক বলে উঠল যে, ’হে আল্লাহর রাসূল! তার দুই চাদর এবং দুই পার্শ্ব [বাহু] দর্শন [অর্থাৎ ধন ও তার অহংকার] তাকে আটকে দিয়েছে।’ [এ কথা শুনে] মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ) বললেন, ’’তুমি নিকৃষ্ট কথা বললে। আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তাকে ভালোই জানি।’’ সুতরাং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নীরব থাকলেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ২৭৫৮, ২৯৮৭- ২৯৫০, ৩০৮৮, ৩৫৫৬, ৩৮৮৯, ৩৯৫১, ৪৪১৮, ৪৬৭৭, ৪৬৭৩, ৪৬৭৬, ৪৬৭৭, ৪৬৭৮, ৬২৫৫, ৬৬৯০, ৭২২৫, মুসলিম ২৭৬৯, তিরমিযী ৩১০২, নাসায়ী ৩৮২৪- ৩৮২৬, আবূ দাউদ ২২০২, ৩৩১৭, ৩৩১৯, ৩৩২১, ৪৬০০, আহমাদ ১৫৩৪৩, ১৫৩৪৫, ১৫৩৫৪, ২৬৬২৯, ২৬৬৩৪, ২৬৬৩৭
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৫৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাবূকের সময় নবী صلى الله عليه وسلم কা’ব বিন মালেক রা.-এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন। তখন একজন লোক তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে ধন ও অহংকারের ইঙ্গিত দিয়ে খারাপ কথা বলে। মু‘আয ইবন জাবাল রা. সঙ্গে সঙ্গে বলেন, তুমি নিকৃষ্ট কথা বললে; আমরা তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া কিছু জানি না। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নীরব থাকেন। এই ঘটনায় জিহ্বা হেফাজতের একটি সুন্দর দিক আছে। কারো অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা ছড়ানো উচিত নয়। বরং যাকে ভালো জানা যায়, তার পক্ষে ভালো কথা বলা উচিত। এই হাদিস আমাদের শেখায়, গীবত শুধু নিজে না করলেই শেষ নয়; অন্যায় কথার সামনে নীরব না থেকে সুন্দরভাবে সত্য ও ভালো ধারণা প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনুপস্থিত ব্যক্তির সম্পর্কে খারাপ ধারণা ছড়ানো থেকে বাঁচতে হবে।
- ভালো মানুষ সম্পর্কে ভালো ধারণা প্রকাশ করা উচিত।
- গীবতের পরিবেশে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা দরকার।
