১৮/২৫৫. অধ্যায়ঃ
গীবতে [পরচর্চায়] অংশগ্রহণ করা হারাম। যার নিকট গীবত করা হয় তার উচিত গীবতকারীর তীব্র প্রতিবাদ করা এবং তার সমর্থন না করা। আর তাতে সক্ষম না হলে সম্ভব হলে উক্ত সভা ত্যাগ করে চলে যাওয়া
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿ وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ﴾[القصص: ٥٥]“ওরা যখন অসার বাক্য শ্রবণ করে তখন ওরা তা পরিহার করে চলে।”(সূরা কাসাস ৫৫ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴿وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ﴾[المؤمنون : ٣]অর্থাৎ যারা অসার ক্রিয়া-কলাপ হতে বিরত থাকে।(সূরা মু’মিনূন ৩ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴿إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴾[الاسراء: ٣٦]অর্থাৎ নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বনী ইসরাঈল ৩৬ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴿ وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ﴾ [الانعام: ٦٨]অর্থাৎ তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দূরে সরে পড়; যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে, তাহলে স্মরণ হওয়ার পরে তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না।(সূরা আন’আম ৬৮ আয়াত)
রিয়াদুস সলেহিন : ২/১৫৩৭
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ২/১৫৩৭
وَعَنْ عِتبَانَ بنِ مَالكٍ رضي الله عنه فِي حَدِيثِهِ الطَّوِيلِ المَشْهُورِ الَّذِيْ تَقَدَّمَ فِي بَابِ الرَّجَاءِ قَالَ: قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فَقَالَ: «أَيْنَ مَالِكُ بنُ الدُّخْشُمِ ؟» فَقَالَ رَجُلٌ : ذَلِكَ مُنَافِقٌ لاَ يُحِبُّ اللهَ وَلاَ رَسُولَهُ، فَقَالَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم : «لاَ تَقُلْ ذَلِكَ أَلاَ تَراهُ قَدْ قَالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ يُريدُ بِذَلكَ وَجْهَ اللهِ ! وإنَّ الله قَدْ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ يَبْتَغي بِذَلِكَ وَجْهَ اللهِ» . متفق عَلَيْهِ
ইত্বান ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যা বিগত ’আল্লাহর প্রতি আশা’ পরিচ্ছেদে বর্ণিত একটি সুদীর্ঘ হাদিসের অংশ বিশেষ। একদা নবী (ﷺ) নামায পড়ানোর উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ’’মালেক ইবনে দুখ্শুম কোথায়!’’ একটি লোক বলে উঠল, ’সে তো একজন মুনাফিক; আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে না।’ নবী (ﷺ) বললেন, ’’ও কথা বলো না। তুমি কি মনে কর না যে, সে [কালিমাহ] ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে এবং সে তার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়? যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার উদ্দেশ্যে [কালিমাহ] ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে, আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন।’’ (বুখারী, মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৭৭, ১৮৯, ৪২৪, ৪২৫, ৬৬৭, ৬৮৬, ৮৩৮, ৮৪০, ১১৮৬, ৪০১০, ৫৪০১, ৬৩৫৪, ৬৪২২, ৬৯৩৮, মুসলিম ৩৩, আবূ দাউদ ১৪১১, ইবনু মাজাহ ৬৬০, ৭৫৪, আহমাদ ২৩১০৯, ২৩১২৬
