১৮/২৬৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১৫৬৪ - অভিশাপ ফিরে আসার ভয়
নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা ঘোর নিষিদ্ধ
অন্যায় অভিশাপ ফিরে আসতে পারে: জিহ্বা সংযমের সতর্ক শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/১৫৬৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/১৫৬৪
وَعَنْ أَبي الدَّردَاءِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «إِنَّ العَبْدَ إِذَا لَعَنَ شَيْئاً، صَعَدَتِ اللَّعْنَةُ إِلَى السَّمَاءِ، فَتُغْلَقُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ دُونَهَا، ثُمَّ تَهْبِطُ إِلَى الأَرْضِ، فَتُغْلَقُ أَبْوابُهَا دُونَهَا، ثُمَّ تَأخُذُ يَمِيناً وَشِمَالاً، فَإِذَا لَمْ تَجِدْ مَسَاغاً رَجَعَتْ إِلَى الَّذِي لُعِنَ، فَإِنْ كَانَ أَهْلاً لِذلِكَ، وَإِلاَّ رَجَعَتْ إِلَى قَائِلِهَا». رواه أَبُو داود
আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যখন কোন বান্দা কোন জিনিসকে অভিসম্পাত করে, তখন সেই অভিশাপ আকাশের দিকে উঠে যায়। কিন্তু তার সামনে আকাশের দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে পৃথিবীর দিকে নেমে আসে। তখনও তার সামনে [পৃথিবীর] দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কাজেই ডানে-বামে [এদিক ওদিক] ফিরতে থাকে। পরিশেষে যখন তা কোন যথার্থ স্থান পায় না, তখন অভিশপ্ত বস্তু বা ব্যক্তির প্রতি ফিরে যায়; যদি সে এর [অভিশাপের] উপযুক্ত হয়, তাহলে [তাকে অভিশাপ লেগে যায়]। নচেৎ তা অভিশাপ-কারীর প্রতি ফিরে আসে।’’(আবু দাঊদ)[১]
আবূ দাউদ ৪৯০৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১৫৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অভিশাপের বিষয়ে খুব গভীর সতর্কতা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো বান্দা যখন কোনো জিনিসকে অভিশাপ করে, সেই অভিশাপ আকাশের দিকে ওঠে, কিন্তু আকাশের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তা পৃথিবীর দিকে নামে, সেখানেও পথ পায় না। তারপর ডানে-বামে ঘুরতে থাকে। যদি অভিশপ্ত ব্যক্তি বা বস্তু সেই অভিশাপের উপযুক্ত হয়, তবে তা তার দিকে যায়। আর যদি উপযুক্ত না হয়, তবে অভিশাপকারীর কাছেই ফিরে আসে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, মুখের কথা খুব হালকা বিষয় নয়। রাগের মাথায় অভিশাপ করলে তা নিজের জন্যই বিপদের কারণ হতে পারে। তাই মুসলিমের উচিত অভিশাপের বদলে চুপ থাকা, ধৈর্য ধরা এবং ভালো কথা বলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায় অভিশাপ অভিশাপকারীর দিকেই ফিরে আসতে পারে।
- রাগের সময় মুখের কথা খুব সাবধানে বলা দরকার।
- যাকে অভিশাপ করা হচ্ছে, সে উপযুক্ত কি না—এটা মানুষ নিশ্চিতভাবে জানে না।
- অভিশাপের বদলে চুপ থাকা ও সংযম রাখা নিরাপদ পথ।
