১৮/২৬৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৫৭১ - ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়ার ভয়
কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا﴿ [الاحزاب : ٥٨]অর্থাৎ যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)
ব্যভিচারের অপবাদ: অধীনস্থের সম্মানও রক্ষা করতে হবে
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/১৫৭১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১৫৭১
وَعَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ يَقُوْلُ : «مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَهُ بِالزِّنَى يُقَامُ عَلَيْهِ الحَدُّ يَومَ القِيَامَةِ، إِلاَّ أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ». متفق عَلَيْهِ
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি নিজ মালিকানাধীন দাসের উপর ব্যভিচারের অপবাদ দেবে, কেয়ামতের দিন তার উপর হদ [দণ্ডবিধি] প্রয়োগ করা হবে। তবে সে যা বলেছে, দাস যদি তাই হয় [তাহলে ভিন্ন কথা।]’’(বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৬৮৫৮, মুসলিম ১৬৬০, তিরমিযী ১৯৪৭, আবূ দাউদ ৫১৬৫, আহমাদ ৯২৮৩, ১০১১০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৫৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অপবাদের ভয়াবহতা বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের মালিকানাধীন দাসের ওপর ব্যভিচারের অপবাদ দেবে, কিয়ামতের দিন তার ওপর হদ প্রয়োগ করা হবে; তবে দাস যদি সত্যিই তেমন হয়, তাহলে ভিন্ন কথা। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, কারও সামাজিক অবস্থান নিচু হলেও তার সম্মান নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। মালিকানা বা ক্ষমতা মানুষকে অন্যের সম্ভ্রমে আঘাত করার অনুমতি দেয় না। ব্যভিচারের অপবাদ বিশেষভাবে গুরুতর, কারণ এতে মানুষের সম্মান ও চরিত্রে আঘাত লাগে। তাই প্রমাণ ছাড়া কথা বলা, অপবাদ দেওয়া বা কাউকে লজ্জিত করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ইসলাম অধীনস্থ মানুষের সম্মানকেও গুরুত্ব দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অধীনস্থ মানুষের সম্মানও রক্ষা করা জরুরি।
- ব্যভিচারের অপবাদ প্রমাণ ছাড়া বলা গুরুতর বিষয়।
- ক্ষমতা থাকলেও কারও সম্ভ্রমে আঘাত করা যাবে না।
- মিথ্যা অপবাদের জন্য আখিরাতে জবাবদিহি আছে।
