১৮/২৮১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৬০৬ - তিনজনের মধ্যে দুজনের কানাকানি নিষেধ
তিনজনের একজনকে ছেড়ে দু’জনের কানাকানি
কোন স্থানে একত্রে তিনজন থাকলে, একজনকে ছেড়ে তার অনুমতি না নিয়ে দু’জনে কানাকানি করা [বা প্রথম ব্যক্তিকে গোপন করে কোন কথা বলাবলি করা] নিষেধ। তবে প্রয়োজনবশতঃ এমন গোপন-ভাবে কোন গুপ্ত কথা বলা যে, যাতে তৃতীয়-জন যেন তা না শুনতে পায়, তাহলে তা বৈধ। অনুরূপ দু’জনের এমন ভাষায় কথা বলা যা তৃতীয় ব্যক্তি বুঝে না, তাও নিষিদ্ধের পর্যায়ভুক্ত।আল্লাহ বলেছেন,﴾إِنَّمَا النَّجْوَىٰ مِنَ الشَّيْطَانِ﴿ [المجادلة: ١٠]অর্থাৎ গোপন পরামর্শ তো শয়তানেরই প্ররোচনা।(সূরা মুজাদিলাহ ১০ আয়াত)
তিনজনের মধ্যে কানাকানি নয়: মন কষ্ট থেকে বাঁচার আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৬০৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৬০৬
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ قَالَ: «إِذَا كانُوا ثَلاثَةً، فَلاَ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ» . متفق عَلَيْهِ. وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ : قَالَ أَبُو صَالِح : قُلْتُ لابنِ عُمرَ : فَأَرْبَعَةً؟ قَالَ: لاَ يَضُرُّكَ.وَرَوَاهُ مَالِكٌ فِي «الموَطأ»: عَن عَبدِ اللهِ بنِ دِينَارٍ، قَالَ: كُنْتُ أَنَا وابْنُ عُمَرَ عِنْدَ دَارِ خَالِدِ بنُ عُقْبَةَ الَّتي فِي السُّوقِ، فَجَاءَ رَجُلٌ يُريدُ أَنْ يُنَاجِيَهُ، وَلَيْسَ مَعَ ابْنِ عُمَرَ أَحَدٌ غَيْرِي، فَدَعَا ابْنُ عُمَرَ رَجُلاً آخَرَ حَتَّى كُنَّا أَرْبَعَةً، فَقَالَ لِي وَلِلرَّجُلِ الثَّالِثِ الَّذِي دَعَا : اسْتَأْخِرَا شَيْئاً، فَإنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ يقُولُ : «لاَ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ وَاحِدٍ».
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যখন [কোন স্থানে] একত্রে তিনজন থাকবে, তৃতীয়-জনকে ছেড়ে যেন দু’জনে কানাকানি না করে।’’(বুখারী ও মুসলিম)[১] উক্ত হাদিসটি ইমাম আবূ দাঊদ [স্বীয় গ্রন্থে] বর্ধিত আকারে বর্ণনা করেছেন, আবূ সালেহ বলেন, আমি ইবনে উমরকে জিজ্ঞাসা করলাম, ’যদি [একত্রে] চারজন হয় [তাহলে দু’জনে কানাকানি করা বৈধ কি না]?’ তিনি উত্তর দিলেন, ’তাতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না।’ইমাম মালেক উক্ত হাদিসকে তাঁর ’মুঅত্তা’ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে দ্বীনার থেকে উদ্ধৃত করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে দ্বীনার বলেন, আমি ও ইবনে উমর খালেদ ইবনে উক্ববার বাজারের বাড়ির নিকট অবস্থান করছিলাম। ইত্যবসরে একটি লোক এসে পৌঁছল, যার ইচ্ছা ছিল ইবনে উমরের সাথে কানে কানে কিছু বলবে। আর ইবনে উমরের সাথে আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। সুতরাং ইবনে উমর তৃতীয় একজন লোককে ডাকলেন। পরিশেষে আমরা মোট চারজন হয়ে গেলে তিনি আমাকে ও আহূত তৃতীয় ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বললেন, ’তোমরা একটু সরে দাঁড়াও। কেননা, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে একথা বলতে শুনেছি যে, ’’[একত্রে তিনজন থাকলে] একজনকে ছেড়ে যেন দু’জনে কানাকানি না করে।’’
সহীহুল বুখারী ৬২৮৮, মুসলিম ২১৮৩, আবূ দাউদ ৪৮৫১, ইবনু মাজাহ ৩৭৭৬, আহমাদ ৪৫৫০, ৪৬৭১, ৪৮৫৬, ৫০০৩, ৫০২৬, ৫২৩৬, ৫৪০২, ৬০২১, ৬১৯০, ৬৩০২, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৫৬, ১৮৫৭
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৬০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সামাজিক আদবের একটি সুন্দর শিক্ষা এসেছে। যখন তিনজন একসাথে থাকে, তখন তৃতীয়জনকে বাদ দিয়ে দুজনের কানাকানি করা নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এমন আচরণে বাদ পড়া মানুষটি কষ্ট পেতে পারে, সন্দেহ করতে পারে বা নিজেকে অপমানিত মনে করতে পারে। বর্ণনায় দেখা যায়, ইবনে উমার রাঃ এই নির্দেশকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবে পালন করেছেন। যখন কেউ তাঁর সাথে গোপনে কথা বলতে চাইল এবং পাশে মাত্র একজন ছিলেন, তখন তিনি আরেকজনকে ডাকলেন। চারজন হলে দুইজন আলাদা কথা বললে ক্ষতি নেই—এমন ব্যাখ্যাও বর্ণনায় এসেছে। তাই কানাকানি করার আদব, মুসলিম ভাইয়ের মন রক্ষা এবং সামাজিক ভদ্রতা এই হাদিসের মূল শিক্ষা। ছোট আচরণও মানুষের মনে প্রভাব ফেলে—এটি মনে রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তিনজন থাকলে একজনকে বাদ দিয়ে দুজনের কানাকানি করা নিষেধ।
- অন্যের মন কষ্ট পেতে পারে এমন আচরণ থেকে বাঁচতে হবে।
- সামাজিক আদব ইসলামি চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- ইবনে উমার রাঃ বাস্তবে এই হাদিসের শিক্ষা মানতেন।
