১৮/২৮২. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৬০৮ - বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি
দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
মহান আল্লাহ বলেন,﴾ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا﴿ [النساء : ٣٦]অর্থাৎ পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। নিশ্চয় আল্লাহ আত্মম্ভরি দাম্ভিককে ভালবাসেন না।(সূরা নিসা ৩৬ আয়াত)
বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার হাদিস: প্রাণীর প্রতি দয়ার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৬০৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৬০৮
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «عُذِّبَتِ امْرَأَةٌ فِي هِرَّةٍ سَجَنَتْهَا حَتَّى مَاتَتْ، فَدَخَلَتْ فِيهَا النَّارَ، لاَ هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَسَقَتْهَا، إِذْ حَبَسَتْهَا، وَلاَ هِيَ تَرَكَتْهَا تَأكُلُ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ». متفق عَلَيْهِ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’এক মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে তাকে বেঁধে রেখেছিল এবং অবশেষে সে মারা গিয়েছিল, পরিণতিতে মহিলা তারই কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করল। সে যখন তাকে বেঁধে রেখেছিল, তখন তাকে আহার ও পানি দিত না এবং তাকে ছেড়েও দিত না যে, সে কীট-পতঙ্গ ধরে খাবে।’’(বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ২৩৬৫, ৩৩১৮, ৩৪৮২, মুসলিম ২২৪২, দারেমী ২৮১৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৬০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক নারীর ঘটনা এসেছে, যিনি একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিলেন। বিড়ালটি মারা যায়, কারণ তাকে খাবার-পানি দেওয়া হয়নি এবং তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়নি যাতে সে নিজে কীট-পতঙ্গ ধরে খেতে পারে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানিয়েছেন, এই কারণে ওই নারী শাস্তি পেয়েছে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা খুব বড় অন্যায়। কোনো প্রাণীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখলে তার খাবার, পানি ও বাঁচার প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখা দায়িত্ব। এখানে প্রাণীর অধিকার, দয়া, বিড়ালকে কষ্ট দেওয়া এবং খাবার-পানি না দিয়ে আটকে রাখার ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে এসেছে। তাই পোষা প্রাণী রাখলে তাকে অবহেলা করা যাবে না। দয়া শুধু মানুষের প্রতি নয়, জীবজন্তুর প্রতিও হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রাণীকে বেঁধে রেখে খাবার-পানি না দেওয়া গুরুতর অন্যায়।
- পোষা প্রাণীর প্রয়োজন পূরণ করা মালিকের দায়িত্ব।
- প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কঠিন শাস্তির কারণ হতে পারে।
- দয়া ও যত্ন ইসলামি আচরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
