১৮/২৮৮. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৬২৬ - দ্বিমুখী আচরণ ও মুনাফিকীর সতর্কতা

‘রিয়া’ [লোক-প্রদর্শনমূলক কার্যকলাপ] হারাম

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ﴿ [البينة: ٥]অর্থাৎ তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠ-ভাবে তাঁর ইবাদত করতে।(সূরা বাইয়িনাহ ৫ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ﴿ [البقرة: ٢٦٤]অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! দানের কথা প্রচার করে এবং কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে নষ্ট করে দিয়ো না ঐ লোকের মত যে নিজের ধন লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করে।(সূরা বাকারাহ ২৬৪ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَىٰ يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا﴿ [النساء : ١٤٢]অর্থাৎ নিশ্চয় মুনাফিক [কপট] ব্যক্তিরা আল্লাহকে প্রতারিত করতে চায়। বস্তুতঃ তিনিও তাদেরকে প্রতারিত করে থাকেন এবং যখন তারা নামাযে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সাথে নিছক লোক-দেখানোর জন্য দাঁড়ায় এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে থাকে।(সূরা নিসা ১৪২)

দ্বিমুখী আচরণ কেন মুনাফিকীর লক্ষণ

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১৬২৬

وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ نَاساً قَالُوا لَهُ: إِنَّا نَدْخُلُ عَلَى سَلاَطِيننَا فَنَقُولُ لَهُمْ بِخِلاَفِ مَا نَتَكَلَّمُ إِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِندِْهِمْ ؟ قَالَ ابنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : كُنَّا نَعُدُّ هَذَا نِفاقاً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ . رواه البخاري

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কিছু লোক তাঁর নিকট নিবেদন করল যে, ’আমরা আমাদের শাসকদের নিকট যাই এবং তাদেরকে ঐ সব কথা বলি, যার বিপরীত বলি তাদের নিকট থেকে বাইরে আসার পর। [সে সম্বন্ধে আপনার অভিমত কি?]’ ইবনে উমর (রাঃ) উত্তর দিলেন, ’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় এরূপ আচরণকে আমরা ’মুনাফিক্বী’ আচরণ বলে গণ্য করতাম।’(বুখারী)[১]

সহীহুল বুখারী ৭১৭৮, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৫, আহমাদ ৫৭৯৫

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্‌-নাবাবী (রহ.)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৬২৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় মুনাফিকী আচরণ। কিছু লোক ইবনে উমার (রাঃ)-কে বলল, তারা শাসকদের কাছে গিয়ে এমন কথা বলে, কিন্তু বাইরে এসে তার বিপরীত কথা বলে। ইবনে উমার (রাঃ) উত্তর দিলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে এ ধরনের আচরণকে মুনাফিকী হিসেবে গণ্য করা হতো। হাদিসটি খুব সরল কিন্তু গভীর শিক্ষা দেয়। মানুষের সামনে এক রকম আর পেছনে আরেক রকম কথা বলা চরিত্রের দুর্বলতা। বিশেষ করে ক্ষমতাবানদের সামনে খুশি করার জন্য ভিন্ন কথা বলা এবং পরে উল্টো কথা বলা সত্যবাদিতা ও সাহসের সঙ্গে যায় না। এই হাদিস আমাদের শেখায়, কথা বলার ক্ষেত্রে সততা, ভেতর-বাহিরের মিল এবং দ্বিমুখী আচরণ থেকে বেঁচে থাকা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মানুষের সামনে এক কথা আর পেছনে বিপরীত কথা বলা নিন্দিত আচরণ।
  • ক্ষমতাবানদের খুশি করতে সত্য বদলে ফেলা চরিত্রের সমস্যা।
  • মুমিনের কথায় ভেতর ও বাহিরের মিল থাকা দরকার।
  • মুনাফিকী আচরণ থেকে বাঁচতে সত্যবাদিতা চর্চা করতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন