১৮/২৯০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১৬৩৫ - গুপ্তাঙ্গের হেফাজত ও শালীনতা
বেগানা নারী এবং কোনো সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ﴿[النور : ٣٠]অর্থাৎ ঈমানদারগণকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে।(সূরা নূর ৩০ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴿[الاسراء: ٣٦]অর্থাৎ নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৬ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ﴿[غافر: ١٩]অর্থাৎ চক্ষুর চোরা চাহনি ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত।(সূরা মুমিন ১৯ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾ إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ﴿[الفجر: ١٤]অর্থাৎ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।(সূরা ফজর ১৪ আয়াত)
গুপ্তাঙ্গের হেফাজত ও শালীনতার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/১৬৩৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/১৬৩৫
وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «لاَ يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ، وَلاَ المَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ المَرْأَةِ، وَلاَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، وَلاَ تُفْضِي المَرْأةُ إِلَى المَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الواحِدِ». رواه مسلم
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’কোন পুরুষ অন্য পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে যেন না তাকায়। কোন নারী অন্য নারীর গুপ্তস্থানের দিকে যেন না তাকায়। কোন পুরুষ অন্য পুরুষের সঙ্গে একই কাপড়ে যেন [উলঙ্গ] শয়ন না করে। [অনুরূপভাবে] কোন নারী, অন্য নারীর সাথে একই কাপড়ে যেন [উলঙ্গ] শয়ন না করে।(মুসলিম)[১]
মুসলিম ৩৩৮, আহমাদ ১১২০৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১৬৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় শালীনতা ও গুপ্তাঙ্গের হেফাজত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো পুরুষ যেন অন্য পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে না তাকায় এবং কোনো নারী যেন অন্য নারীর গুপ্তস্থানের দিকে না তাকায়। তিনি আরও নিষেধ করেছেন, কোনো পুরুষ যেন অন্য পুরুষের সঙ্গে একই কাপড়ে উলঙ্গভাবে শয়ন না করে; একইভাবে কোনো নারীও অন্য নারীর সঙ্গে এমনভাবে শয়ন না করে। হাদিসটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, দেহের মর্যাদা এবং শালীনতার সীমা শেখায়। এখানে পুরুষ ও নারী—দুই পক্ষের জন্যই আদব বলা হয়েছে। ইসলাম শুধু বাইরের আচরণ নয়, একান্ত অবস্থার শালীনতাকেও গুরুত্ব দেয়। তাই দৃষ্টি, পোশাক ও শোয়ার অবস্থার মতো বিষয়েও সতর্কতা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের গুপ্তাঙ্গের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
- পুরুষের জন্য পুরুষের এবং নারীর জন্য নারীর মাঝেও শালীনতার সীমা আছে।
- একই কাপড়ে উলঙ্গভাবে শোয়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
- দেহের গোপনীয়তা রক্ষা করা ইসলামী আদবের অংশ।
