১৮/৩২৮. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৭৪৬ - কৃত্রিম বাকপটুতা ও জিহ্বার অপব্যবহার
কষ্ট কল্পনার সাথে গালভরে কথা বলা, মিথ্যা বাক্পটুতা প্রকাশ করা এবং সাধারণ মানুষকে সম্বোধন-কালে উদ্ভট ও বিরল বাক্য সম্বলিত ভাষা প্রয়োগ অবাঞ্ছনীয়
কৃত্রিম বাকপটুতা নয়: সহজ ও সত্য কথাই উত্তম
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১৭৪৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১৭৪৬
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: «إِنَّ اللهَ يُبْغِضُ البَلِيغَ مِنَ الرِّجَالِ الَّذي يَتَخَلَّلُ بِلِسَانِهِ كَمَا تَتَخَلَّلُ البَقَرَةُ». رواه أبو داود والترمذي، وقال:[حديث حسن]
আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’অবশ্যই আল্লাহ এমন বাকপটু মানুষকে ঘৃণা করেন, যে জিহ্বা দ্বারা ভক্ষণ করে [এমন ঢঙে জিভ ঘুরিয়ে কথা বলে,] যেমন গাভী নিজ জিহ্বা দ্বারা সাপটে তৃণ ভক্ষণ করে।’’[আবূ দাঊদ, তিরিমিযী হাসান][১]
তিরমিযী ২৮৫৩, আবূ দাউদ ৫০০৫, আহমাদ ৬৫০৭, ৬৭১৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৭৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন বাকপটু মানুষের কথা বলেছেন, যাকে আল্লাহ ঘৃণা করেন। সে জিহ্বা ঘুরিয়ে, কৃত্রিম ভঙ্গিতে কথা বলে; হাদিসে এর তুলনা করা হয়েছে গাভীর জিহ্বা দিয়ে তৃণ ভক্ষণের সাথে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কথা বলার দক্ষতা নিজে দোষ নয়, কিন্তু অহংকার, ঢং, মানুষকে প্রভাবিত করার অসুস্থ চেষ্টা বা কৃত্রিম বাকভঙ্গি অপছন্দনীয়। মুমিনের ভাষা সহজ, পরিষ্কার ও সত্য হওয়া উচিত। অপ্রয়োজনে শব্দের খেলা, কায়দা করে কথা টানা বা নিজেকে খুব বড় বক্তা দেখানোর মানসিকতা থেকে বাঁচা দরকার। এই হাদিস জবান সংযম এবং বিনয়ী কথাবার্তার দিকে আমাদের ডাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কৃত্রিম ঢঙে কথা বলা অপছন্দনীয়।
- বাকপটুতা যেন অহংকার বা দেখানোর মাধ্যম না হয়।
- মুমিনের কথা সহজ, সত্য ও বিনয়ী হওয়া দরকার।
- জিহ্বার ব্যবহারেও আল্লাহর ভয় থাকা উচিত।
