১৮/৩৩৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৫৪ - আল্লাহর ইচ্ছা বলার সঠিক ভাষা
‘আল্লাহ এবং অমুক যা চায় [তাই হবে]’ বলা নিষিদ্ধ
আল্লাহর ইচ্ছা আগে: কথায় তাওহিদের শালীনতা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৭৫৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৫৪
عَنْ حُذَيْفَةَ بنِ اليَمَانِ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: «لاَ تَقُولُوا : مَا شَاءَ اللهُ وَشَاءَ فُلاَنٌ؛ وَلَكِنْ قُولُوا : مَا شَاءَ اللهُ، ثُمَّ شَاءَ فُلاَنٌ». رواه أبو داود بإسناد صحيح
হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমরা ’আল্লাহ ও অমুক যা চায় [তাই হবে]’ বলো না, বরং বলো, ’আল্লাহ যা চান, তারপর অমুক যা চায় [তাই হবে]।’’[আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে]
আবূ দাউদ ৪৯৮০, আহমাদ ২২৭৫৪, ২২৮২৮, ২২৮৭২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) একটি সাধারণ কথার সংশোধন করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ ও অমুক যা চায়’ বলো না; বরং বলো, ‘আল্লাহ যা চান, তারপর অমুক যা চায়।’ এখানে মূল শিক্ষা হলো, কথার ভেতরে আল্লাহর মর্যাদা ও বান্দার অবস্থান ঠিকভাবে রাখা দরকার। ‘ও’ শব্দে দুই পক্ষকে পাশাপাশি রাখার ইঙ্গিত হতে পারে, তাই নবীজি ‘তারপর’ শব্দ ব্যবহার করতে বলেছেন। এতে বোঝা যায়, মুমিনের ভাষায় তাওহিদের আদব থাকতে হবে। দৈনন্দিন কথাবার্তায় ছোট শব্দও বড় অর্থ বহন করতে পারে। তাই আল্লাহর ইচ্ছা, ক্ষমতা ও মর্যাদার কথা বলতে হলে সাবধান, পরিষ্কার ও সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর ইচ্ছাকে বান্দার ইচ্ছার সাথে পাশাপাশি বলা উচিত নয়।
- ‘আল্লাহ যা চান, তারপর অমুক’—এভাবে বলা শেখানো হয়েছে।
- ছোট শব্দও বিশ্বাসের অর্থে প্রভাব ফেলতে পারে।
- তাওহিদের আদব কথাবার্তায়ও রক্ষা করা দরকার।
