১৮/৩৩০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৪৯ - আঙ্গুরকে করম বলা নিষেধ
আরবীতে আঙ্গুরের নাম ‘করম’ রাখা মাকরূহ
আঙ্গুরকে করম বলা নয়: শব্দের মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৭৪৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৪৯
عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «لاَ تُسَمُّوا العِنَبَ الكَرْمَ، فَإنَّ الكَرْمَ المُسْلِمُ» متفق عليه، وهذا لفظ مسلموفي رواية : فَإنَّمَا الكَرْمُ قَلْبُ المُؤمِنِ. وفي رواية للبخاري ومسلم : يَقُولُونَ الكَرْمُ، إنَّمَا الكَرْمُ قَلْبُ المُؤْمِنِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমরা আঙ্গুরের নাম ’করম’ [বদান্য] রেখো না। কেননা, ’করম’ [বদান্য] তো মুসলিম হয়।’’(মুসলিম) অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’কারম’ [বদান্য] তো মুমিনের হৃদয়।’’ বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনা মতে: ’’লোকে [আঙ্গুরকে] ’কারম’ [বদান্য] বলে। ’কারম’ [বদান্য] তো কেবল মুমিনের হৃদয়।’’
সহীহুল বুখারী ৪৮২৬, ৬১৮১, ৬১৮৩, ৭৪৯১, মুসলিম ২২৪৬, আবূ দাউদ ৪৯৭৪, ৫২৭৪, আহমাদ ৭২০৪, ৭২১৬, ৭৪৬৬, ৭৬২৫, ৭৬৫৯, ৮৮৭২, ৮৮৯২, ৯৮০৭, ৯৯৯৪, ১০০৬১, ১০১০১, ১০২০০, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৪৬, দারেমী ২৭০০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) আঙ্গুরের নাম ‘করম’ রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘করম’ তো মুসলিম। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘করম’ হলো মুমিনের হৃদয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কিছু শব্দের বিশেষ মর্যাদা আছে এবং সেগুলো কোথায় ব্যবহার করা হচ্ছে তা খেয়াল করা দরকার। আঙ্গুর একটি ফল, কিন্তু ‘করম’ বা বদান্যতার অর্থ মুমিনের ভালো গুণের সাথে বেশি মানানসই। তাই নবীজি শব্দ ব্যবহারে সংশোধন করেছেন। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ভাষা শুধু অভ্যাস নয়; ভাষার মধ্যে ভাব, সম্মান ও মূল্যবোধ থাকে। একজন মুমিন কথা বলার সময় শব্দের অর্থ ও ইঙ্গিতের দিকে খেয়াল রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যে শব্দের বিশেষ মর্যাদা আছে, তা ঠিক জায়গায় ব্যবহার করা দরকার।
- আঙ্গুরকে ‘করম’ বলা থেকে নবীজি নিষেধ করেছেন।
- মুমিনের হৃদয় ও বদান্যতার মর্যাদা আলাদা।
- ভাষার অর্থ ও ইঙ্গিতের দিকে সতর্ক থাকা উচিত।
