১৮/৩২৯. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৪৮ - অপছন্দনীয় শব্দ বর্জনের শিক্ষা
আমার আত্মা খবীস হয়ে গেছে বলা নিষেধ
শব্দ ব্যবহারে শালীনতা: খবীস নয়, কলুষিত বলার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৭৪৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৪৮
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: «لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ : خَبُثَتْ نَفْسي، وَلكِنْ لِيَقُلْ : لَقِسَتْ نَفْسي» متفق عليه
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমাদের মধ্যে অবশ্যই কেউ যেন ’আমার আত্মা খবীস হয়ে গেছে’ না বলে। তবে বলতে পারে যে, ’আমার অন্তর কলুষিত হয়ে গেছে।’’(বুখারী)[১] উলামাগণের মতে ’খবীস’ হওয়া ও ’কলুষিত’ হওয়ার অর্থ প্রায় একই। কিন্তু নবী (ﷺ) ’খবীস’ শব্দটির প্রয়োগ অপছন্দ করেছেন।
সহীহুল বুখারী ৬১৭৯, মুসলিম ২২৫০, আবূ দাউদ ৪৯৭৯, আহমাদ ২৩৭২৩, ২৩৮৫৪, ২৫২২০, ২৫৪০৮, ২৭৬৬০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের অবস্থা প্রকাশের ভাষাতেও শালীনতা শেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যেন ‘আমার আত্মা খবীস হয়ে গেছে’ না বলে; বরং বলতে পারে, ‘আমার অন্তর কলুষিত হয়ে গেছে।’ উলামাগণের মতে, দুই কথার অর্থ কাছাকাছি হলেও নবী (صلى الله عليه وسلم) ‘খবীস’ শব্দটির ব্যবহার অপছন্দ করেছেন। এখান থেকে বোঝা যায়, শুধু অর্থ নয়, শব্দের ভঙ্গি ও সৌন্দর্যও গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুমিন নিজের সম্পর্কে, অন্যের সম্পর্কে এবং সাধারণ কথাবার্তায় এমন শব্দ বেছে নেবে যা ভদ্র ও কম কঠিন। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ভাষা পরিশুদ্ধ করা ঈমানি চরিত্রের অংশ। ছোট শব্দও মানুষের মন ও পরিবেশে প্রভাব ফেলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের সম্পর্কেও খারাপ শব্দ ব্যবহার এড়িয়ে চলা ভালো।
- কাছাকাছি অর্থ হলেও শালীন শব্দ বেছে নেওয়া দরকার।
- নবীজি অপছন্দনীয় শব্দের বদলে ভালো শব্দ শিখিয়েছেন।
- ভাষার সৌন্দর্য মুমিনের চরিত্রের অংশ।
