১৮/৩৫৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৮৩ - নারীর শোক পালনের সময়সীমা
মৃতের জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হারাম। তবে স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করবে
নারীর শোক পালন: তিন দিন ও চার মাস দশ দিনের বিধান
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৭৮৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৮৩
عَنْ زَينَبَ بِنتِ أَبِي سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَتْ : دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، زَوجِ النَّبِيِّ ﷺ، حِينَ تُوُفِّيَ أَبُوهَا أبُو سُفْيَانَ بنُ حَربٍ رضي الله عنه فَدَعَتْ بِطِيبٍ فِيهِ صُفْرَةُ خَلُوقٍ أَوْ غَيرِهِ، فَدَهَنَتْ مِنهُ جَارِيَةً، ثُمَّ مَسَّتْ بِعَارِضَيْهَا، ثُمَّ قَالَتْ : واللهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ، غَيْرَ أنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يقُولُ عَلَى المِنْبَرِ : «لاَ يَحِلُّ ِلامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ، إِلاَّ علَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً».قالَتْ زَيْنَبُ : ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بنْتِ جَحْشٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا حِينَ تُوُفِّيَ أَخُوهَا، فَدَعَتْ بِطِيبٍ فَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ : أَمَا وَاللهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ، غَيرَ أنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يقُولُ عَلَى المِنْبَرِ : «لاَ يَحِلُّ لامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوقَ ثَلاَثٍ، إِلاَّ علَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً». متفق عليه
যায়নাব বিনতু আবূ সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন শাম [সিরিয়া] থেকে নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাঃ)-এর পিতা আবূ সুফয়ান (রাঃ)-এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, তখন আমি তাঁর বাসায় প্রবেশ করলাম। [মৃত্যুর তিনদিন পর] তিনি হলুদ বর্ণ দ্রব্য বা অন্য দ্রব্য মিশ্রিত সুগন্ধি আনালেন। তা থেকে কিছু নিয়ে স্বীয় দাসীকে এবং নিজের দুই গালে মাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে মিম্বরের উপর [খুতবা দান কালে] এ কথা বলতে শুনেছি যে, ’’যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কেয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।’’যয়নাব বলেন, তারপর যখন যয়নাব বিন্তে জাহ্শ (রাঃ)-এর ভাই মারা গেলেন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি সুগন্ধি আনালেন এবং তা থেকে কিছু নিয়ে মাখার পর বললেন; আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে মিম্বরের উপর [খুতবা দান কালে] এ কথা বলতে শুনেছি যে, ’’যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কেয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।’’(বুখারী ও মুসলিম)[[শোকপালনে মহিলা সৌন্দর্যময় কাপড় পরবে না, কোন প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করবে না, কোন অলঙ্কার ব্যবহার করবে না, কোন প্রসাধন [পাউডার, সুরমা, কাজল, লিপস্টিক ইত্যাদি] ব্যবহার করবে না এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবে না।]]
সহীহুল বুখারী ১২৮০, ১২৮১, ১২৮২, ৫৩৩৫, ৫৩৪৫, মুসলিম ১৪৮৬, তিরমিযী ১১৯৫, নাসায়ী ৩৫০২, ৩৫২৭, ৩৫৩৩, ৩৫৪১, আবূ দাউদ ২২৯৯, ইবনু মাজাহ ২০৮৪, আহমাদ ২৬২২৫, ২৬২২৬, মুওয়াত্তা মালিক ১২৬৯, দারেমী ২২৮৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যয়নাব বিন্তে আবূ সালামাহ (রাঃ) দুইটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। উম্মে হাবীবা (রাঃ)-এর পিতা মারা গেলে তিন দিন পর তিনি সুগন্ধি ব্যবহার করেন এবং বলেন, তাঁর সুগন্ধির দরকার ছিল না, কিন্তু তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখা কোনো নারীর জন্য স্বামী ছাড়া অন্য মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন জায়েয নয়। স্বামীর জন্য শোকের সময় চার মাস দশ দিন। যয়নাব বিন্তে জাহ্শ (রাঃ)-এর ভাই মারা গেলে তিনিও একই শিক্ষা প্রকাশ করেন। এখানে শোক পালন, ঈমান এবং শরীয়তের সীমা মানার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামী ছাড়া অন্য মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা যাবে না।
- স্বামীর জন্য শোক পালনের সময় চার মাস দশ দিন।
- ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
- শোকের মধ্যেও শরীয়তের সীমা মানা জরুরি।
