১/২১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৮৫ - আমানতদার কোষাধ্যক্ষের সাদকাহ
নেকী ও সংযমশীলতার কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ ﴿ [المائدة: ٢]অর্থাৎ “সৎকাজ ও আত্মসংযমে তোমরা পরস্পর সহযোগিতা কর।” (সূরা মায়েদাহ ২ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱلۡعَصۡرِ ١ إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَفِي خُسۡرٍ ٢ إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلۡحَقِّ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلصَّبۡرِ ٣ ﴿ [العصر: ١، ٣]অর্থাৎ “সময়ের শপথ!। মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়। আর উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারণের।” (সূরা আসর)ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, লোকেরা অথবা তাদের অধিকাংশই এই সূরা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার ব্যাপারে উদাসীন। (তফসীর ইবনু কাসীর)
আমানতদার কোষাধ্যক্ষ: সঠিকভাবে সম্পদ পৌঁছে দেওয়ার নেকী
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/১৮৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/১৮৫
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الأشعَرِي رضي الله عنه، عَنِ النَّبيّ ﷺ، أنَّه قَالَ: «الخَازِنُ المُسْلِمُ الأمِينُ الَّذِي يُنفِذُ مَا أُمِرَ بِهِ فيُعْطيهِ كَامِلاً مُوَفَّراً طَيِّبَةً بِهِ نَفْسُهُ فَيَدْفَعُهُ إِلَى الَّذِي أُمِرَ لَهُ بِهِ، أحَدُ المُتَصَدِّقين». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) নবী (ﷺ) বলেন, ’’যে মুসলিম আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ মালিকের আদেশ অনুযায়ী কাজ করে এবং সে ভালো মনে তাকে পূর্ণ মাল দেয়, যাকে মালিক দেওয়ার আদেশ করে, সেও সাদকাহকারীদের মধ্যে একজন গণ্য হয়।’’[১]
মুসলিম ১৪৩৮, ২২৬০, ২৩১৯, মুসলিম ১০২৩, ১৬৯৯, আবূ দাউদ ১৬৮৪, আহমাদ ১৯০১৮, ১৯১২৭, ১৯১২৮, ১৯১৫৩, ১৯২০৭, নাসায়ী ২৫৬০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন মুসলিম আমানতদার কোষাধ্যক্ষের মর্যাদা বলা হয়েছে। সে মালিকের আদেশ অনুযায়ী কাজ করে, পূর্ণভাবে মাল দেয় এবং মন ভালো রেখে যার জন্য আদেশ করা হয়েছে তার কাছে তা পৌঁছে দেয়। এমন ব্যক্তি সাদকাহকারীদের একজন গণ্য হয়। এখানে মূল বিষয় হলো আমানতদারি, আদেশ মেনে সম্পদ দেওয়া এবং মন থেকে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করা। শুধু সম্পদের মালিকই নয়, সম্পদ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা মানুষও নেক কাজে অংশ নিতে পারে—যদি সে আমানত রক্ষা করে এবং কম না দেয়। তাই এই হাদিস অফিস, ঘর বা সমাজের দায়িত্বে থাকা মানুষের জন্যও বড় শিক্ষা দেয়, তবে ব্যাখ্যা অবশ্যই হাদিসের মূল কথার মধ্যে সীমিত থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের সম্পদ দায়িত্ব নিয়ে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া আমানতদারি।
- মালিকের আদেশ অনুযায়ী পূর্ণভাবে দেওয়া সাদকাহর কাজে অংশ নেওয়া।
- নেক কাজে মন ভালো রাখা এবং কৃপণতা না করা গুরুত্বপূর্ণ।
- সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সততা ইসলামে মূল্যবান গুণ।
