১৯/৩৭০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪৯/১৮৬৫ - বিচারে চেষ্টা ও সঠিক সিদ্ধান্তের সওয়াব
দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
বিচারকের ইজতিহাদ: সঠিক হলে দুই নেকী, ভুল হলেও এক নেকী
রিয়াদুস সালেহীন : ৪৯/১৮৬৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪৯/১৮৬৫
وَعَنْ عَمرِو بنِ العَاصِ رضي الله عنه: أنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ، يَقُولُ : «إِذَا حَكَمَ الحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ، ثُمَّ أَصَابَ، فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ وَاجْتَهَدَ، فَأَخْطَأَ، فَلَهُ أَجْرٌ» متفق عَلَيْهِ
‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, ’’যখন কোন বিচারক [বিচার করার সময়] চেষ্টা-প্রচেষ্টা করে বিচার করবে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবে, তখন তার দু’টি নেকী হবে। আর যখন চেষ্টা সত্ত্বেও বিচারে ভুল করে ফেলবে, তখনও তার একটি নেকী হবে।’’(বুখারী-মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৭৩৫২, মুসলিম ১৭১৭৬, আবূ দাউদ ২৫৭১, ইবনু মাজাহ ২৩১৪, আহমাদ ৬৭১৬, ১৭৩২০, ১৭৩৬০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪৯/১৮৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারক বা সিদ্ধান্তদাতার দায়িত্ব নিয়ে সুন্দর ভারসাম্য শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, বিচারক যদি চেষ্টা-প্রচেষ্টা করে বিচার করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে, তবে তার জন্য দুই নেকী। আর যদি চেষ্টা করার পরও ভুল হয়ে যায়, তবুও তার জন্য একটি নেকী। এখানে মূল কথা হলো, বিচার হালকা বিষয় নয়; বিচার করার আগে চেষ্টা, চিন্তা এবং সত্যে পৌঁছানোর আন্তরিক মন থাকতে হবে। হাদিসটি ভুলকে উৎসাহ দেয় না; বরং সৎ চেষ্টা ও যোগ্যতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্ব বোঝায়। তাই বিচার, ফতোয়া, পরামর্শ বা দায়িত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া নয়—সততা, জ্ঞান ও চেষ্টা জরুরি। বিচারক না হলেও, যে কোনো দায়িত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এই সততা ও চেষ্টা আমাদের জন্য দরকারি শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে সত্যে পৌঁছানোর জন্য আন্তরিক চেষ্টা দরকার।
- সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছালে বড় সওয়াবের আশা আছে।
- চেষ্টা সত্ত্বেও ভুল হলে হাদিসে এক নেকীর কথা এসেছে।
- দায়িত্বপূর্ণ বিচার তাড়াহুড়া করে করা উচিত নয়।
