১/২৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৮/২৪৩ - মুসলিমের উপর মুসলিমের অধিকার
মুসলিমদের মান-মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা-প্রদর্শন ও তাদের অধিকার-রক্ষা এবং তাদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্যের গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَمَن يُعَظِّمۡ حُرُمَٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦۗ ﴿ [الحج: ٣٠]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য এটাই উত্তম।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩০ আয়াত)আরো বলেন,﴾وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ﴿ [الحج: ٣٢]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের সংযমশীলতারই বহিঃপ্রকাশ।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩২ আয়াত)তিনি বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “বিশ্বাসীদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (হিজ্র ৮৮আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾مَن قَتَلَ نَفۡسَۢا بِغَيۡرِ نَفۡسٍ أَوۡ فَسَادٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ ٱلنَّاسَ جَمِيعٗا وَمَنۡ أَحۡيَاهَا فَكَأَنَّمَآ أَحۡيَا ٱلنَّاسَ جَمِيعٗاۚ ﴿ [المائدة: ٣٢]অর্থাৎ “যে ব্যক্তি নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করার দণ্ডদান উদ্দেশ্য ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যা করল। আর কেউ কারো প্রাণরক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।” (সূরা মায়েদাহ ৩২ আয়াত)
মুসলিমের অধিকার: সালাম থেকে জানাযা পর্যন্ত ভ্রাতৃত্বের আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ১৮/২৪৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৮/২৪৩
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ الله ﷺ، قَالَ: «حَقُّ المُسْلِم عَلَى المُسْلِم خَمْسٌ: رَدُّ السَّلامِ، وَعِيَادَةُ المَريض، وَاتِّبَاعُ الجَنَائِزِ، وَإجَابَةُ الدَّعْوَة، وتَشْميتُ العَاطِسِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ. وفي رواية لمسلم: حَقُّ المُسْلِم عَلَى المُسْلِم ستٌّ : إِذَا لَقيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأجبْهُ، وإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ الله فَشَمِّتْهُ، وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ، وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ’’মুসলিমের উপর মুসলিমের পাঁচটি অধিকার রয়েছেঃ(১) সালামের জবাব দেওয়া(২) রোগীকে দেখতে যাওয়া(৩) জানাযায় অংশ গ্রহণ করা(৪) দাওয়াত গ্রহণ করা এবং(৫) কেউ হাঁচি দিলে তার জবাব দেওয়া।’’ (বুখারী ও মুসলিম) মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’মুসলিমের উপর মুসলিমের অধিকার ছয়টিঃ তুমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাকে সালাম দাও, সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত গ্রহণ কর, সে তোমার কাছে উপদেশ চাইলে তুমি তাকে উপদেশ দাও, সে হাঁচি দিয়ে ’আলহামদু লিল্লাহ’ বললে তার জবাব দাও, সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাও এবং সে মারা গেলে তার জানাযায় অংশ গ্রহণ কর।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ১২৪০, মুসলিম ২১৬২, তিরমিযী ২৭৩৭, নাসায়ী ১৯৩৮, আবূ দাউদ ৫০৩০, ইবনু মাজাহ ১৪৩৫, আহমাদ ২৭৫১১, ১০৫৮৩
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৮/২৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসলিমের উপর মুসলিমের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার বলা হয়েছে। সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশ নেওয়া, দাওয়াত গ্রহণ করা এবং হাঁচি দিলে জবাব দেওয়া—এসব ছোট মনে হলেও মুসলিম সমাজে ভালোবাসা ও সম্পর্ককে মজবুত করে। মুসলিমের আরেক বর্ণনায় ছয়টি অধিকার এসেছে, যেখানে দেখা হলে সালাম দেওয়া, দাওয়াত গ্রহণ করা, উপদেশ চাইলে উপদেশ দেওয়া, আলহামদু লিল্লাহ বলার পর হাঁচির জবাব দেওয়া, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া এবং মৃত্যু হলে জানাযায় অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ভ্রাতৃত্ব শুধু কথার বিষয় নয়; দৈনন্দিন আচরণের মধ্যেই তা প্রকাশ পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাম দেওয়া ও সালামের জবাব সম্পর্ককে সুন্দর করে।
- রোগী দেখা ও জানাযায় অংশ নেওয়া মুসলিম ভাইয়ের হকের অংশ।
- দাওয়াত গ্রহণ ও উপদেশ দেওয়া পারস্পরিক সম্পর্ককে মজবুত করে।
- ছোট আদবগুলো সমাজে ভালোবাসা বাড়ায়।
