১/২৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৯/২৪৪ - সাতটি আদেশ ও সাতটি নিষেধ
মুসলিমদের মান-মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা-প্রদর্শন ও তাদের অধিকার-রক্ষা এবং তাদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্যের গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَمَن يُعَظِّمۡ حُرُمَٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦۗ ﴿ [الحج: ٣٠]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য এটাই উত্তম।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩০ আয়াত)আরো বলেন,﴾وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ﴿ [الحج: ٣٢]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের সংযমশীলতারই বহিঃপ্রকাশ।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩২ আয়াত)তিনি বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “বিশ্বাসীদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (হিজ্র ৮৮আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾مَن قَتَلَ نَفۡسَۢا بِغَيۡرِ نَفۡسٍ أَوۡ فَسَادٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ ٱلنَّاسَ جَمِيعٗا وَمَنۡ أَحۡيَاهَا فَكَأَنَّمَآ أَحۡيَا ٱلنَّاسَ جَمِيعٗاۚ ﴿ [المائدة: ٣٢]অর্থাৎ “যে ব্যক্তি নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করার দণ্ডদান উদ্দেশ্য ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যা করল। আর কেউ কারো প্রাণরক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।” (সূরা মায়েদাহ ৩২ আয়াত)
সাতটি আদেশ ও নিষেধ: মুসলিম জীবনের সামাজিক আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ১৯/২৪৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৯/২৪৪
وعن أَبي عُمارة الْبراءِ بنِ عازبٍ رضي اللَّه عنهما قال: أَمرنا رسولُ اللَّه صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم بِسبْعٍ: أَمرنَا بِعِيادة الْمرِيضِ، وَاتِّبَاعِ الْجنازةِ، وتَشْمِيتِ الْعاطِس، وَإِبْرارِ الْمُقْسِمِ، ونَصْرِ المظْلُومِ، وَإِجابَةِالدَّاعِي، وإِفْشاءِ السَّلامِ. وَنَهانَا عَنْ خواتِيمَ أَوْ تَختُّمٍ بالذَّهبِ، وَعنْ شُرْبٍ بالفَضَّةِ، وعَنِ المياثِرِ الحُمْرِ، وَعَنِ الْقَسِّيِّ، وَعَنْ لُبْسِ الحَرِيرِ وَالإِسْتَبْرَقِ وَالدِّيبَاجِ. متفق عليه.وفي روايةٍ: وإِنْشَادِ الضَّالةِ فِي السَّبْعِ الأُولِ. «المياثِرِ « بيَاء مُثَنَّاةٍ قبْلَ الأَلِفِ، وَثَاء مثلثة بعْدَهَا، وَهِيَ جمْعُ مَيْثِرةٍ، وَهِي شَيْءٌ يتَّخَذُ مِنْ حرِيرٍوَيُحْشَى قُطْناً أَوْ غَيْرَهُ ويُجْعلُ فِي السُّرُجِ وآُورِ الْبعِيرِ يجْلِسُ عَلَيْهِ الرَّاآِبُ »والقَسيُّ« بفتحِ القاف وآسرالسينِ المهملة المشدَّدةِ: وَهِيَ ثِيَابٌ تُنْسَجُ مِنْ حَرِيرٍ وآَتَّانٍ مُخْتَلِطَيْنِ. » وإِنْشَادُ الضَّالَّةِ «: تَعرْيفُهَا.
আবূ ‘উমারাহ বারা’ ইবনু আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সাতটি কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি রোগীকে দেখতে যেতে, জানাযায় অংশগ্রহণ করতে, কেউ হাঁচি দিলে তার জবাব দিতে, শপথকারীর শপথ রক্ষা করতে, নিপীড়িতদের সাহায্য করতে, সালামের প্রসার ঘটাতে এবং কেউ দাওয়াত দিলে তা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি আমাদেরকে সোনার আংটি পরতে, রূপার পাত্র ব্যবহার করতে, রেশমের জিনপোশ, কাস্সী, ইস্তাবরাক ও দীবাজ (সর্বপ্রকার রেশমী পোশাক) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ১২৩৯, ২৪৪৫, ৫১৫৭, ৫৬৩৫, ৫৬৫০, ৫৮৩৮, ৫৮৪৯, ৫৮৬৩, ৬২২২, ৬২৩৫, ৬৬৫৪, মুসলিম ২০৬৬, তিরমিযী ১৭৬০, ২৮০৯, নাসায়ী ১৯৩৯, ৩৭৭৮, ৫৩০৯, ইবনু মাজাহ ২১১৫, আহমাদ ১৮০৩৪, ১৮০৬১, ১৮১৭০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৯/২৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাতটি কাজের আদেশ এবং সাতটি কাজের নিষেধের কথা এসেছে। আদেশগুলোর মধ্যে আছে রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশ নেওয়া, হাঁচি দিলে জবাব দেওয়া, শপথকারীর শপথ রক্ষা করা, নিপীড়িতকে সাহায্য করা, সালামের প্রসার ঘটানো এবং দাওয়াত গ্রহণ করা। এগুলো মুসলিম সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সম্মান ও সহমর্মিতা বাড়ায়। নিষেধের অংশে সোনার আংটি, রূপার পাত্র এবং বিভিন্ন ধরনের রেশমী ব্যবহার থেকে বারণ করা হয়েছে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ইসলাম মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার এবং নিজের জীবনযাপনে সংযম—দুই দিকই গুরুত্ব দেয়। সামাজিক অধিকার ও ব্যক্তিগত আদব একসঙ্গে মেনে চলাই সুন্দর মুসলিম চরিত্রের পরিচয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগী দেখা, জানাযা ও সালাম প্রচার সামাজিক দায়িত্বের অংশ।
- নিপীড়িতকে সাহায্য করা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।
- দাওয়াত গ্রহণ ও হাঁচির জবাব মুসলিম ভ্রাতৃত্বের আদব।
- নিষিদ্ধ সাজসজ্জা ও বিলাসিতা থেকে বাঁচা সংযম শেখায়।
