১/৩৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/২৬৯ - প্রকৃত মিসকীন কে? আত্মসম্মানী দরিদ্রের পরিচয়
অনাথ-এতীম, কন্যা-সন্তান ও সমস্ত দুর্বল ও দরিদ্রের সঙ্গে নম্রতা, তাদের প্রতি দয়া ও তাদের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “মু‘মিনদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (সূরা হিজর ৮৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ ﴿ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দিক হতে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩ وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠ ﴿ [الضحا: ٩، ١٠]অর্থাৎ “অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়ো না এবং ভিক্ষুককে ধমক দিয়ো না।” (সূরা যুহা ৯-১০ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ١ فَذَٰلِكَ ٱلَّذِي يَدُعُّ ٱلۡيَتِيمَ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلۡمِسۡكِينِ ٣ ﴿ [الماعون: ١، ٣]অর্থাৎ “তুমি কি দেখেছ তাকে, যে (দ্বীন বা) কর্মফলকে মিথ্যা মনে করে থাকে? সে তো ঐ ব্যক্তি, যে পিতৃহীনকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ প্রদান করে না।” (সূরা মাউন ১-৩ আয়াত)
প্রকৃত মিসকীন কে: আত্মসম্মানী দরিদ্রকে চিনে সাহায্য করার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/২৬৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/২৬৯
وَعَنهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «لَيْسَ المِسْكينُ الَّذِي تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ، وَلا اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ إِنَّمَا المِسكِينُ الَّذِي يَتَعَفَّفُ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِوَفي رِوَايَةٍ في الصَّحِيحَينِ: «لَيْسَ المِسكِينُ الَّذِي يَطُوفُ عَلَى النَّاسِ تَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ واللُّقْمَتانِ، وَالتَّمْرَةُ والتَّمْرَتَانِ، وَلَكِنَّ المِسْكِينَ الَّذِي لاَ يَجِدُ غنىً يُغْنِيه، وَلاَ يُفْطَنُ بِهِ فَيُتَصَدَّقَ عَلَيهِ، وَلاَ يَقُومُ فَيَسْأَلُ النَّاسَ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’মিসকীন সে নয়, যাকে একটি খেজুর এবং দুটি খেজুর এবং এক গ্রাস বা দুগ্রাস (অন্ন) ফিরিয়ে দেয়। বরং মিসকীন তো ঐ ব্যক্তি, যে (অভাব থাকা সত্ত্বেও) চাওয়া থেকে দূরে থাকে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১] অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’মিসকীন সে নয়, যে এক অথবা দু টুকরা খেজুর কিংবা এক অথবা দু মুঠো খানা পেয়ে বিদায় হয়ে যায়। কিন্তু মিসকীন হল সেই ব্যক্তি, যে প্রয়োজন মোতাবেক যথেষ্ট রুজির মালিক নয় এবং সাধারণত লোকে তাকে অভাবী বলে চিনতেও পারে না; যাতে তাকে দান করা যায়। আর সে নিজে উঠে লোকের কাছে চায়ও না।’’ (অর্থাৎ পেটে ক্ষুধা রেখে মুখে লাজ করে।)
সহীহুল বুখারী ১৪৭৬, ১৪৭৯, ৪৫৩৯, মুসলিম ১০৩৯, নাসায়ী ২৫৭১, ২৫৭২, ২৫৭৩, আবূ দাউদ ১৬৩১, আহমাদ ৭৪৮৬, ২৭৪০৪, ৮৮৬৭, ৮৮৯৫, ৯৪৫৪, মুওয়াত্তা মালেক -১৪৩৭, দারেমী ১৬১৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/২৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মিসকীনের গভীর পরিচয় দিয়েছেন। সাধারণভাবে আমরা ভাবি, যে মানুষের কাছে চায় এবং কিছু খাবার পেলে ফিরে যায়, সেই মিসকীন। কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, প্রকৃত মিসকীন সে নয় যাকে এক-দুই খেজুর বা এক-দুই গ্রাস খাবার ফিরিয়ে দেয়। বরং প্রকৃত মিসকীন হলো সেই ব্যক্তি, যে অভাবী হওয়া সত্ত্বেও চাওয়া থেকে দূরে থাকে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তার যথেষ্ট রুজি নেই, মানুষও তাকে অভাবী বলে বুঝতে পারে না, তাই তাকে দান করা হয় না; আবার সে নিজেও উঠে মানুষের কাছে চায় না। এই হাদিস আমাদের দানের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। শুধু প্রকাশ্য ভিক্ষুক নয়, আত্মসম্মানী দরিদ্রকেও খুঁজে সাহায্য করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রকৃত মিসকীন অনেক সময় মানুষের চোখে ধরা পড়ে না।
- আত্মসম্মানী দরিদ্রকে খুঁজে সাহায্য করা উচিত।
- দান করার সময় শুধু যারা চায় তাদের দিকেই নজর দেওয়া যথেষ্ট নয়।
- অভাবী হয়েও চাওয়া থেকে বিরত থাকা প্রশংসনীয় গুণ।
