১/৩৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/২৭৩ - কন্যা সন্তানের প্রতি উত্তম ব্যবহারের প্রতিদান
অনাথ-এতীম, কন্যা-সন্তান ও সমস্ত দুর্বল ও দরিদ্রের সঙ্গে নম্রতা, তাদের প্রতি দয়া ও তাদের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “মু‘মিনদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (সূরা হিজর ৮৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ ﴿ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দিক হতে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩ وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠ ﴿ [الضحا: ٩، ١٠]অর্থাৎ “অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়ো না এবং ভিক্ষুককে ধমক দিয়ো না।” (সূরা যুহা ৯-১০ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ١ فَذَٰلِكَ ٱلَّذِي يَدُعُّ ٱلۡيَتِيمَ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلۡمِسۡكِينِ ٣ ﴿ [الماعون: ١، ٣]অর্থাৎ “তুমি কি দেখেছ তাকে, যে (দ্বীন বা) কর্মফলকে মিথ্যা মনে করে থাকে? সে তো ঐ ব্যক্তি, যে পিতৃহীনকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ প্রদান করে না।” (সূরা মাউন ১-৩ আয়াত)
কন্যা সন্তানের প্রতি উত্তম ব্যবহার: জাহান্নাম থেকে অন্তরাল হওয়ার আশা
রিয়াদুস সালেহীন : ৯/২৭৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৯/২৭৩
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : دَخَلَتْ عَلَيَّ امْرَأةٌ وَمَعَهَا ابنَتَانِ لَهَا تَسْأَلُ، فَلَمْ تَجِدْ عِنْدِي شَيئاً غَيْرَ تَمْرَةٍ وَاحدَةٍ، فَأعْطَيْتُهَا إيَّاهَا فَقَسَمَتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْها ولَمْ تَأكُلْ مِنْهَا، ثُمَّ قَامَتْ فَخَرجَتْ، فَدَخَلَ النَّبيُّ ﷺ عَلَينَا، فَأخْبَرْتُهُ فَقَالَ: «مَنِ ابْتُليَ مِنْ هذِهِ البَنَاتِ بِشَيءٍ فَأحْسَنَ إلَيْهِنَّ، كُنَّ لَهُ سِتراً مِنَ النَّارِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক মহিলা তার দুটি মেয়ে সঙ্গে নিয়ে আমার নিকট ভিক্ষা চাইল। অতঃপর সে আমার নিকট একটি খুরমা ব্যতীত কিছুই পেল না। সুতরাং আমি তা তাকে দিয়ে দিলাম। মহিলাটি তার দুমেয়েকে খুরমাটি ভাগ করে দিল এবং সে নিজে তা থেকে কিছুই খেল না, অতঃপর সে উঠে বের হয়ে গেল। ইতোমধ্যে নবী (ﷺ) এলেন। আমি তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন, ’’যাকে এই কন্যা সন্তান দিয়ে কোনো পরীক্ষায় ফেলা হয়, তারপর যদি সে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করে, তাহলে এ কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে অন্তরাল হবে।’’ (বুখারী, মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ১৪১৮, ৫৯৯৫, মুসলিম ২৬২৯, তিরমিযী ১৯১৫, আহমাদ ২৩৫৩৬, ২৪০৫১, ২৪০৯০, ২৪৮০৪, ২৫৫২৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/২৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা রাঃ একটি মায়ের ঘটনা বলেন। এক মহিলা দুই মেয়েকে নিয়ে তাঁর কাছে কিছু চাইতে এলেন। ঘরে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছু ছিল না। আয়েশা রাঃ তা তাঁকে দিলেন। মহিলা খেজুরটি নিজের জন্য না রেখে দুই মেয়ের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। পরে নবী صلى الله عليه وسلم এ ঘটনা শুনে বললেন, যাকে এই কন্যা সন্তান দিয়ে কোনো পরীক্ষায় ফেলা হয়, তারপর সে তাদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করে, তাহলে এই কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে অন্তরাল হবে। এখানে কন্যা সন্তানকে অবহেলা নয়, বরং ভালোবাসা ও উত্তম আচরণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মায়ের ত্যাগ, সন্তানের প্রতি মমতা এবং কন্যাদের মর্যাদা—সবই এই হাদিসে স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কন্যা সন্তানের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা বড় নেক কাজ।
- মায়ের ত্যাগ ও সন্তানের প্রতি মমতা প্রশংসনীয়।
- অল্প সম্পদ থাকলেও সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা আছে।
- কন্যাদের অবহেলা নয়, স্নেহ ও সম্মান দেওয়া উচিত।
