১/৩৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/২৭২ - দুই কন্যার লালন-পালনের ফজিলত
অনাথ-এতীম, কন্যা-সন্তান ও সমস্ত দুর্বল ও দরিদ্রের সঙ্গে নম্রতা, তাদের প্রতি দয়া ও তাদের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “মু‘মিনদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (সূরা হিজর ৮৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ ﴿ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দিক হতে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩ وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠ ﴿ [الضحا: ٩، ١٠]অর্থাৎ “অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়ো না এবং ভিক্ষুককে ধমক দিয়ো না।” (সূরা যুহা ৯-১০ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ١ فَذَٰلِكَ ٱلَّذِي يَدُعُّ ٱلۡيَتِيمَ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلۡمِسۡكِينِ ٣ ﴿ [الماعون: ١، ٣]অর্থাৎ “তুমি কি দেখেছ তাকে, যে (দ্বীন বা) কর্মফলকে মিথ্যা মনে করে থাকে? সে তো ঐ ব্যক্তি, যে পিতৃহীনকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ প্রদান করে না।” (সূরা মাউন ১-৩ আয়াত)
দুই কন্যার লালন-পালনের ফজিলত: কন্যা সন্তানের মর্যাদা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/২৭২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/২৭২
وعن أَنس رضي اللَّه عنه عن النبي صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قال : «مَنْ عَالَ جَارِيتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَيَومَ القِيامَةِ أَنَا وَهُو آَهَاتَيْنِ» وَضَمَّ أَصَابِعَهُ. رواه مسلم. «جَارِيَتَيْنِ» أَيْ : بِنْتَيْنِ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, ’’যে ব্যক্তি দুটি কন্যার লালন-পালন তাদের সাবালিকা হওয়া অবধি করবে, কেয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দুটি আঙ্গুলের মত পাশাপাশি আসব।’’ অতঃপর তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলি মিলিত করে (দেখালেন)। (মুসলিম) [১]
মুসলিম ২৬৩১, তিরমিযী ১৯১৪, আহমাদ ১২০৮৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/২৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই কন্যার লালন-পালন তাদের সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত করবে, কিয়ামতের দিন তিনি এবং সেই ব্যক্তি দুই আঙুলের মতো পাশাপাশি আসবেন। এরপর তিনি আঙুলগুলো মিলিয়ে দেখিয়েছেন। এখানে কন্যা সন্তানের লালন-পালনকে বড় মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। লালন-পালন বলতে শুধু খাবার বা পোশাক দেওয়া নয়; ভালো ব্যবহার, নিরাপত্তা, আদব, শিক্ষা এবং স্নেহের পরিবেশ দেওয়াও এর মধ্যে পড়ে। অনেক সমাজে কন্যা সন্তানকে বোঝা মনে করা হয়, কিন্তু এই হাদিস সেই ভুল ধারণা ভেঙে দেয়। কন্যা সন্তানের প্রতি যত্ন, ধৈর্য ও ভালোবাসা আল্লাহর কাছে মূল্যবান আমল হতে পারে। তাই কন্যাদের সম্মান, সুরক্ষা ও সুন্দরভাবে বড় করে তোলা মুসলিম পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কন্যা সন্তানের লালন-পালন ইসলামে সম্মানিত কাজ।
- সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত সন্তানদের যত্ন নেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব।
- কন্যাকে বোঝা মনে করা হাদিসের শিক্ষার সঙ্গে যায় না।
- ভালো ব্যবহার ও স্নেহ দিয়ে কন্যাদের বড় করা দরকার।
