১/৩৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/২৭৬ - দুর্বলদের কারণে সাহায্য ও রুযী লাভ
অনাথ-এতীম, কন্যা-সন্তান ও সমস্ত দুর্বল ও দরিদ্রের সঙ্গে নম্রতা, তাদের প্রতি দয়া ও তাদের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “মু‘মিনদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (সূরা হিজর ৮৮ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ ﴿ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দিক হতে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩ وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠ ﴿ [الضحا: ٩، ١٠]অর্থাৎ “অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়ো না এবং ভিক্ষুককে ধমক দিয়ো না।” (সূরা যুহা ৯-১০ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ١ فَذَٰلِكَ ٱلَّذِي يَدُعُّ ٱلۡيَتِيمَ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلۡمِسۡكِينِ ٣ ﴿ [الماعون: ١، ٣]অর্থাৎ “তুমি কি দেখেছ তাকে, যে (দ্বীন বা) কর্মফলকে মিথ্যা মনে করে থাকে? সে তো ঐ ব্যক্তি, যে পিতৃহীনকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ প্রদান করে না।” (সূরা মাউন ১-৩ আয়াত)
দুর্বলদের কারণে সাহায্য ও রুযী: অহংকার থেকে বাঁচার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১২/২৭৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/২৭৬
وَعَن مُصعَبِ بنِ سَعدِ بنِ أَبي وَقَّاصٍ رَضِيَ الله عَنهُمَا، قَالَ: رَأى سَعدٌ أنَّ لَهُ فَضْلاً عَلَى مَنْ دُونَهُ، فَقَالَ النَّبيُّ ﷺ: «هَلْ تُنْصَرُونَ وتُرْزَقُونَ إلاَّ بِضُعَفَائِكُمْ». رواه البخاري هكذا مُرسلاً، فَإِنَّ مُصعَبَ بنَ سَعدَ تَابِعِيٌّ، وَرَوَاهُ الحَافِظ أَبُو بَكرٍ البَرقَاني في صَحِيحِهِ مُتَّصِلاً عَن مُصعَبٍ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه
মুসআব ইবনু সা‘দ ইবনু আবী অক্কাস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
(তাঁর পিতা) সা’দ ধারণা করলেন যে, তাঁর চেয়ে নিম্নশ্রেণীর লোকের উপর তাঁর মর্যাদা রয়েছে। নবী (ﷺ) বললেন, ’’তোমাদেরকে দুর্বলদের কারণেই সাহায্য করা হয় এবং রুযী দেওয়া হয়। (বুখারী মুরসাল সূত্রে, যেহেতু মুসআব ইবনু সাদ তাবেঈ। তবে হাফেয আবূ বকর বারক্বানী তাঁর সহীহ গ্রন্থে ’মুস’আব নিজ পিতা হতে’ মুত্তাসিল সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)
সহীহুল বুখারী ২৮৯৬, নাসায়ী ৩১৭৮, আহমাদ ১৪৯৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/২৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসআব ইবনু সা’দ থেকে বর্ণিত, সা’দ রাঃ মনে করলেন যে তাঁর চেয়ে নিম্ন অবস্থার লোকদের উপর তাঁর মর্যাদা বেশি। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, তোমাদেরকে দুর্বলদের কারণেই সাহায্য করা হয় এবং রুযী দেওয়া হয়। এই হাদিস খুব পরিষ্কারভাবে অহংকার থেকে বাঁচার শিক্ষা দেয়। শক্তি, বংশ, ধন বা সামাজিক অবস্থান দেখে মানুষ নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় ভাবতে পারে। কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم স্মরণ করিয়ে দিলেন, সমাজের দুর্বল মানুষের উপস্থিতি, দোয়া ও তাদের প্রতি দায়িত্বের কারণেও আল্লাহ সাহায্য ও রুযী দেন। তাই দুর্বলদের অবহেলা নয়, সম্মান করতে হবে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, নিজের যোগ্যতা নিয়ে গর্ব না করে আল্লাহর দয়া ও দুর্বল মানুষের মর্যাদা মনে রাখতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজেকে দুর্বল মানুষের চেয়ে বড় ভাবা থেকে বাঁচতে হবে।
- দুর্বলদের কারণেও আল্লাহ সাহায্য ও রুযী দেন।
- সমাজের অসহায় মানুষকে অবহেলা করা উচিত নয়।
- রুযী ও সাহায্যকে নিজের যোগ্যতার ফল মনে করে অহংকার করা ঠিক নয়।
