১/৩৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/২৮২ - স্ত্রীর ভরণপোষণ ও সম্মান
স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ ﴿ [النساء: ١٩]অর্থাৎ “তোমরা তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন কর।” (সূরা নিসা ১৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَلَن تَسۡتَطِيعُوٓاْ أَن تَعۡدِلُواْ بَيۡنَ ٱلنِّسَآءِ وَلَوۡ حَرَصۡتُمۡۖ فَلَا تَمِيلُواْ كُلَّ ٱلۡمَيۡلِ فَتَذَرُوهَا كَٱلۡمُعَلَّقَةِۚ وَإِن تُصۡلِحُواْ وَتَتَّقُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ١٢٩ ﴿ [النساء: ١٢٩]অর্থাৎ “তোমরা যতই সাগ্রহে চেষ্টা কর না কেন, স্ত্রীদের প্রতি সমান ভালোবাসা তোমরা কখনই রাখতে পারবে না। তবে তোমরা কোন এক জনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না এবং অপরকে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেড়ে দিও না। আর যদি তোমরা নিজেদের সংশোধন কর ও সংযমী হও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা নিসা ১২৯ আয়াত)
স্ত্রীর অধিকার: খাবার, পোশাক ও সম্মানজনক ব্যবহার
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/২৮২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/২৮২
وَعَن مُعَاوِيَةَ بنِ حَيدَةَ رضي الله عنه، قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ الله، مَا حَقُّ زَوجَةِ أَحَدِنَا عَلَيهِ؟ قَالَ: «أنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طعِمْتَ، وَتَكْسُوهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ، وَلاَ تَضْرِبِ الوَجْهَ، وَلا تُقَبِّحْ، وَلا تَهْجُرْ إلاَّ في البَيْتِ». حديثٌ حسنٌ رواه أَبُو داود وَقالَ : معنى «لا تُقَبِّحْ» أي : لا تقل : قبحكِ الله.
মুআবিয়াহ ইবনু হাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো স্ত্রীর অধিকার স্বামীর উপর কতটুকু?’ তিনি বললেন, ’’তুমি খেলে তাকে খাওয়াবে এবং তুমি পরলে তাকে পরাবে। (তার) চেহারায় মারবে না, তাকে ’কুৎসিত হ’ বলবে না এবং তার থেকে পৃথক থাকলে বাড়ীর ভিতরেই থাকবে।’’ (অর্থাৎ অবাধ্য স্ত্রীকে বাধ্য করার জন্য বিছানা পৃথক করতে পারা যাবে, কিন্তু রুম পৃথক করা যাবে না।) (আবূ দাউদ, হাসান সূত্রে) [১]
আবূ দাউদ ২১৪২, ২১৪৩, ২১৪৪, ইবনু মাজাহ ১৮৫০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/২৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন সাহাবী রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার কী। উত্তরে নবী (صلى الله عليه وسلم) খুব সহজ ভাষায় কয়েকটি বিষয় বলেন। স্বামী নিজে খেলে স্ত্রীকে খাওয়াবে, নিজে পোশাক পরলে স্ত্রীকে পোশাক দেবে। এর মাধ্যমে স্ত্রীর ভরণপোষণকে পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, চেহারায় মারবে না এবং তাকে কুৎসিত বলে অপমান করবে না। এতে বোঝা যায়, দাম্পত্য জীবনে রাগ হলেও অপমানজনক কথা ও অসম্মানজনক আচরণ থেকে বাঁচতে হবে। পৃথক থাকার বিষয়টি ঘরের ভেতরে সীমিত রাখা হয়েছে। তাই হাদিসটি স্ত্রীর অধিকার, সম্মান এবং নরম আচরণের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামীর খাবার-পোশাকের সামর্থ্যে স্ত্রীর অধিকার আছে।
- স্ত্রীর চেহারায় আঘাত করা নিষেধ করা হয়েছে।
- স্ত্রীকে কুৎসিত বলা বা অপমান করা উচিত নয়।
- শাসনের ক্ষেত্রেও ঘর ও সীমার ভেতরে থাকা দরকার।
