১/৪৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৫২ - ইমামতির যোগ্যতা ও মসজিদের আদব
উলামা, বয়স্ক ও সম্মানী ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা করা, তাঁদেরকে অন্যান্যদের উপর প্রাধান্য দেওয়া, তাঁদের উচ্চ আসন দেওয়া এবং তাঁদের মর্যাদা প্রকাশ করার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِي ٱلَّذِينَ يَعۡلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ﴿ [الزمر: ٩]অর্থাৎ “বল, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? বুদ্ধিমান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা যুমার ৯ আয়াত)
ইমামতির যোগ্যতা: কুরআন, সুন্নাহ, অগ্রগামিতা ও আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৩৫২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৩৫২
وَعَن أَبي مَسعُودٍ عُقبَةَ بنِ عَمرٍو البَدرِي الأَنصَارِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «يَؤُمُّ القَوْمَ أقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ الله، فَإنْ كَانُوا في القِراءَةِ سَوَاءً، فأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإنْ كَانُوا في السُّنَّةِ سَوَاءً، فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً، فَإنْ كَانُوا في الهِجْرَةِ سَوَاءً، فَأَقْدَمُهُمْ سِنّاً، وَلاَ يَؤُمّنَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ في سُلْطَانِهِ، وَلاَ يَقْعُدْ في بَيْتِهِ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إلاَّ بِإذْنهِ».رواه مسلموفي رواية لَهُ: «فَأقْدَمُهُمْ سِلْماً» بَدَلَ «سِنّاً» أيْ إسْلاماً. وفي رواية: يَؤُمُّ القَومَ أقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللهِ، وَأقْدَمُهُمْ قِراءةً، فَإنْ كَانَتْ قِرَاءتُهُمْ سَوَاءً فَيَؤُمُّهُمْ أقْدَمُهُمْ هِجْرَةً، فَإنْ كَانُوا في الهِجْرَةِ سَواء، فَليَؤُمُّهُمْ أكْبَرُهُمْ سِنّاً
আবূ মাসঊদ উক্ববাহ ইবনু ‘আমর বাদরী আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’জামাআতের ইমামতি ঐ ব্যক্তি করবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল কোরআন পড়তে জানে। যদি তারা পড়াতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ (হাদীস) বেশী জানে সে (ইমামতি করবে)। অতঃপর তারা যদি সুন্নাহতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে হিজরতকারী। যদি হিজরতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ (ইমামতি করবে)। আর কোনো ব্যক্তি যেন কোনো ব্যক্তির নেতৃত্বস্থলে ইমামতি না করে এবং গৃহে তার বিশেষ আসনে তার বিনা অনুমতিতে না বসে।’’ (মুসলিম) [১]অন্য এক বর্ণনায় ’বয়োজ্যেষ্ঠ’র পরিবর্তে ’সর্বাগ্রে ইসলাম গ্রহণকারী’ শব্দ রয়েছে। আর এক বর্ণনায় আছে, ’’জামাআতের ইমামতি করবে, যে তাদের মধ্যে বেশী ভালো কোরআন পড়তে পারে, যার ক্বিরাআত বেশী ভালো, অতঃপর ক্বিরাআতে সবাই সমান হলে সে ইমামতি করবে, যে তাদের মধ্যে আগে হিজরত করেছে। হিজরতে সবাই সমান হলে সে ইমামতি করবে, যে তাদের মধ্যে বয়সে বড়।’’
মুসলিম ৬৭৩, তিরমিযী ২৩৫, নাসায়ী ৭৮০, আবূ দাউদ ৫৮২, ইবনু মাজাহ ৯৮০, আহমাদ ১৬৬১৫, ১৬৬৪৩, ২১৮৩৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জামাআতের ইমামতি কারা করবে তা ধাপে ধাপে বলেছেন। প্রথমে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে ভালো পড়ে। যদি কিরাআতে সবাই সমান হয়, তবে যে সুন্নাহ বেশি জানে। তাতেও সমান হলে আগে হিজরতকারী, আর তাতেও সমান হলে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। অন্য বর্ণনায় ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামিতার কথাও এসেছে। হাদিসের শেষে আরেকটি আদব শেখানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যেন অন্যের নেতৃত্বস্থলে ইমামতি না করে এবং কারও ঘরের বিশেষ আসনে তার অনুমতি ছাড়া না বসে। এতে বোঝা যায়, ইবাদতের যোগ্যতা যেমন জরুরি, তেমনি মানুষের মর্যাদা ও অনুমতির আদবও জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামতির ক্ষেত্রে কুরআন পাঠের যোগ্যতা আগে বিবেচনা করা হয়।
- সুন্নাহ জানা ইমামতির অগ্রাধিকারে গুরুত্বপূর্ণ।
- নেতৃত্বের জায়গায় অনুমতি ছাড়া এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
- কারও বিশেষ আসনে বসতেও তার অনুমতি দরকার।
