১/৪৪. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৩৬১ - কুরআনের নির্দেশে থেমে যাওয়ার শিক্ষা

উলামা, বয়স্ক ও সম্মানী ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা করা, তাঁদেরকে অন্যান্যদের উপর প্রাধান্য দেওয়া, তাঁদের উচ্চ আসন দেওয়া এবং তাঁদের মর্যাদা প্রকাশ করার বিবরণ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِي ٱلَّذِينَ يَعۡلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ﴿ [الزمر: ٩]অর্থাৎ “বল, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? বুদ্ধিমান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা যুমার ৯ আয়াত)

কুরআনের নির্দেশ মানা: রাগের সময় নিজেকে থামানোর শিক্ষা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/৩৬১

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ الله عَنهُمَا، قَالَ : قَدِمَ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ، فَنَزَلَ عَلَى ابْنِ أخِيهِ الحُرِّ بنِ قَيسٍ، وَكَانَ مِنَ النَّفَرِ الَّذِينَ يُدْنِيهِمْ عُمَرُ رضي الله عنه، وَكَانَ القُرَّاءُ أصْحَابَ مَجْلِس عُمَرَ رضي الله عنه وَمُشاوَرَتِهِ كُهُولاً كانُوا أَوْ شُبَّاناً، فَقَالَ عُيَيْنَةُ لابْنِ أخيهِ : يَا ابْنَ أخِي، لَكَ وَجْهٌ عِنْدَ هَذَا الأمِيرِ فَاسْتَأذِنْ لِي عَلَيهِ، فاسْتَأذَن فَأذِنَ لَهُ عُمَرُ. فَلَمَّا دَخَلَ قَالَ: هِي يَا ابنَ الخَطَّابِ، فَواللهِ مَا تُعْطِينَا الْجَزْلَ وَلا تَحْكُمُ فِينَا بالعَدْلِ. فَغَضِبَ عُمَرُ رضي الله عنه حَتَّى هَمَّ أنْ يُوقِعَ بِهِ. فَقَالَ لَهُ الحُرُّ : يَا أميرَ المُؤْمِنينَ، إنَّ الله تَعَالَى قَالَ لِنَبيِّهِ ﷺ: ﴿ خذ العفو وأمر بالعرف وأعرض عن الجاهلين﴾ [الاعراف: ١٩٩] وَإنَّ هَذَا مِنَ الجَاهِلِينَ، واللهِ مَا جَاوَزَهاَ عُمَرُ حِينَ تَلاَهَا، وكَانَ وَقَّافاً عِنْدَ كِتَابِ اللهِ تَعَالَى. رواه البخاري

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

উয়াইনাহ ইবনু হিস্বন এলেন এবং তাঁর ভাতিজা হুর্র ইবনু কাইসের কাছে অবস্থান করলেন। এই (হুর্র) উমর (রাঃ)-এর খেলাফত কালে ঐ লোকগুলির মধ্যে একজন ছিলেন যাদেরকে তিনি তাঁর নিকটে রাখতেন। আর কোরআন-বিশারদগণ বয়স্ক হন অথবা যুবক হন তাঁরা উমর (রাঃ)-এর সভাষদ ও পরামর্শদাতা ছিলেন। উয়াইনাহ তাঁর ভাতিজাকে বললেন, ’হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! এই খলীফার কাছে তোমার বিশেষ সম্মান রয়েছে। তাই তুমি আমার জন্যে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চাও।’ ফলে তিনি অনুমতি চাইলেন। সুতরাং উমর তাকে অনুমতি দিলেন।অতঃপর যখন উয়াইনাহ ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন উমর (রাঃ)কে বললেন, ’হে ইবনু খাত্ত্বাব! আল্লাহর কসম! আপনি আমাদেরকে পর্যাপ্ত দান দেন না এবং আমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করেন না!’ (এ কথা শুনে) উমর (রাঃ) রেগে গেলেন। এমনকি তাকে মারতে উদ্যত হলেন। তখন হুর্র তাঁকে বললেন, ’হে আমীরুল মু’মেনীন! আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবীকে বলেন, ’’তুমি ক্ষমাশীলতার পথ অবলম্বন কর। ভাল কাজের আদেশ প্রদান কর এবং মূর্খদিগকে পরিহার করে চল।’’ (সূরা আল আ’রাফ ১৯৯ আয়াত) আর এ এক মূর্খ।’ আল্লাহর কসম! যখন তিনি (হুর্র) এই আয়াত পাঠ করলেন, তখন উমর (রাঃ) একটুকুও আগে বাড়লেন না। আর তিনি আল্লাহর কিতাবের কাছে (অর্থাৎ তাঁর নির্দেশ শুনে) থেমে যেতেন।(বুখারী) [১]

সহীহুল বুখারী ৪৬৪২, ৭২৮৬

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৩৬১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরআনের নির্দেশ মানা এবং রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখা। উয়াইনাহ ইবনু হিস্বন উমার (রাঃ)-এর সামনে কঠিন ভাষায় অভিযোগ করলেন। কথাগুলো উমার (রাঃ)-কে রাগিয়ে দিল, এমনকি তিনি ব্যবস্থা নিতে উদ্যত হলেন। তখন হুর্র ইবনু কাইস কুরআনের আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলেন: ক্ষমাশীলতার পথ ধরো, ভালো কাজের আদেশ করো এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলো। এই আয়াত শুনেই উমার (রাঃ) থেমে গেলেন। এখানে বড় শিক্ষা হলো, একজন মুমিনের কাছে নিজের রাগ, মর্যাদা বা ক্ষমতার চেয়ে আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ বড়। কুরআনের নির্দেশ মানা শুধু তিলাওয়াতের বিষয় নয়; বাস্তব জীবনের কথাবার্তা, বিচার, রাগ ও আচরণেও তা মানতে হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাগের সময় কুরআনের নির্দেশ স্মরণ করলে মানুষ নিজেকে সংযত করতে পারে।
  • ক্ষমতা থাকলেও অন্যায়ভাবে প্রতিক্রিয়া না দেওয়া মুমিনের সুন্দর গুণ।
  • মূর্খতাপূর্ণ আচরণের জবাবে সব সময় কঠোর হওয়া জরুরি নয়; কখনো এড়িয়ে চলাও উত্তম।
  • আল্লাহর কিতাবের সামনে থেমে যাওয়াই প্রকৃত আনুগত্যের পরিচয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন