১/৪৫. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৬৪ - ওহী বন্ধ হওয়ায় উম্মে আইমানের কান্না

ভাল লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাঁদের সাহচর্য গ্রহণ করা, তাঁদেরকে ভালবাসা, তাঁদেরকে বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া, তাঁদের কাছে দো‘আ চাওয়া এবং বরকতময় স্থানসমূহের দর্শন

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِفَتَىٰهُ لَآ أَبۡرَحُ حَتَّىٰٓ أَبۡلُغَ مَجۡمَعَ ٱلۡبَحۡرَيۡنِ أَوۡ أَمۡضِيَ حُقُبٗا ٦٠ ﴿ [الكهف: ٦٠] إِلَى قوله تَعَالَى : ﴾ قَالَ لَهُۥ مُوسَىٰ هَلۡ أَتَّبِعُكَ عَلَىٰٓ أَن تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمۡتَ رُشۡدٗا ٦٦ ﴿ [الكهف: ٦٦]অর্থাৎ “(স্মরণ কর,) যখন মূসা তার সঙ্গীকে বলেছিল, দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছে আমি থামব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।” -এখান থেকে আল্লাহর বাণী:- “মূসা তাকে বলল, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে, তা হতে আমাকে শিক্ষা দেবেন এই শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি?” (সূরা কাহফ ৬০-৬৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ﴿ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত

ওহী বন্ধ হওয়ার বেদনা: উম্মে আইমানের গভীর অনুভূতি

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৩৬৪

وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ : قَالَ أَبُو بَكرٍ لِعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ : انْطَلِقْ بِنَا إِلَى أُمِّ أيْمَنَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا نَزُورُهَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ﷺ يَزُورُهَا، فَلَمَّا انْتَهَيَا إِلَيْهَا، بَكَتْ، فَقَالاَ لَهَا : مَا يُبْكِيكِ؟ أمَا تَعْلَمِينَ أنَّ مَا عِنْدَ اللهِ خَيْرٌ لرَسُولِ اللهِ ﷺ، فَقَالَتْ : مَا أبْكِي أَنْ لاَ أَكُونَ أَعْلَمُ أنَّ مَا عِنْدَ الله تَعَالَى خَيْرٌ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ، وَلَكِنْ أبكي أنَّ الوَحْيَ قدِ انْقَطَعَ مِنَ السَّماءِ، فَهَيَّجَتْهُمَا عَلَى البُكَاءِ، فَجَعَلا يَبْكِيَانِ مَعَهَا. رواه مسلم

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূল (ﷺ)-এর জীবনাবসানের পর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) উমর (রাঃ)-কে বললেন, ’চলুন, আমরা উম্মে আইমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই, যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতেন।’ সুতরাং যখন তাঁরা উম্মে আইমানের কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন।অতঃপর তাঁরা তাঁকে বললেন, ’তুমি কাঁদছ কেন? তুমি কি জানো না যে, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য (দুনিয়া থেকে) অধিক উত্তম? তিনি উত্তর দিলেন, ’আমি এ জন্য কান্না করছি না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য আল্লাহর নিকট যা রয়েছে, তা অধিকতর উত্তম সে কথা আমি জানি না। কিন্তু আমি এজন্য কাঁদছি যে, আসমান হতে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল।’ উম্মে আইমান (তাঁর এ দুঃখজনক কথা দ্বারা) ঐ দু’জনকে কাঁদতে বাধ্য করলেন। ফলে তাঁরাও তাঁর সাথে কাঁদতে লাগলেন।(মুসলিম) [১]

মুসলিম ২৪৫৪, ইবনু মাজাহ ১৬৩৫

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৬৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং ওহীর মর্যাদার গভীর শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইন্তেকালের পর আবূ বকর (রাঃ) উমার (রাঃ)-কে নিয়ে উম্মে আইমান (রাঃ)-এর কাছে গেলেন, যেমন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কাছে যেতেন। তাঁকে দেখে উম্মে আইমান কেঁদে ফেললেন। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, কেন কাঁদছেন? তিনি জানালেন, তিনি এ জন্য কাঁদছেন না যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য আল্লাহর কাছে যা আছে তা উত্তম নয়। বরং তিনি কাঁদছেন, কারণ আসমান থেকে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এই কথায় আবূ বকর ও উমার (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। এখানে শিক্ষা হলো, সাহাবীরা শুধু ব্যক্তিগত শোক করেননি; তারা ওহীর বন্ধ হওয়াকেও বড় বেদনা হিসেবে অনুভব করেছেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাহ অনুসরণে তাঁর পরিচিতজনদের খোঁজ নেওয়া সুন্দর কাজ।
  • ওহী আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় নিয়ামত; এর বিচ্ছেদ সাহাবীদের গভীরভাবে কাঁদিয়েছিল।
  • কান্না সব সময় দুর্বলতার চিহ্ন নয়; কখনো তা ঈমানি অনুভূতির প্রকাশ।
  • সৎ মানুষের স্মৃতি ও দ্বীনি নিয়ামত মনে রাখা হৃদয়কে নরম করে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন