১/৪৫. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৩৬৫ - আল্লাহর জন্য ভালোবাসার মর্যাদা
ভাল লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাঁদের সাহচর্য গ্রহণ করা, তাঁদেরকে ভালবাসা, তাঁদেরকে বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া, তাঁদের কাছে দো‘আ চাওয়া এবং বরকতময় স্থানসমূহের দর্শন
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِفَتَىٰهُ لَآ أَبۡرَحُ حَتَّىٰٓ أَبۡلُغَ مَجۡمَعَ ٱلۡبَحۡرَيۡنِ أَوۡ أَمۡضِيَ حُقُبٗا ٦٠ ﴿ [الكهف: ٦٠] إِلَى قوله تَعَالَى : ﴾ قَالَ لَهُۥ مُوسَىٰ هَلۡ أَتَّبِعُكَ عَلَىٰٓ أَن تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمۡتَ رُشۡدٗا ٦٦ ﴿ [الكهف: ٦٦]অর্থাৎ “(স্মরণ কর,) যখন মূসা তার সঙ্গীকে বলেছিল, দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছে আমি থামব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।” -এখান থেকে আল্লাহর বাণী:- “মূসা তাকে বলল, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে, তা হতে আমাকে শিক্ষা দেবেন এই শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি?” (সূরা কাহফ ৬০-৬৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ﴿ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা: নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ২/৩৬৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৩৬৫
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيِّ ﷺ: «أنَّ رَجُلاً زَارَ أَخَاً لَهُ في قَريَة أُخْرَى، فَأرْصَدَ الله تَعَالَى عَلَى مَدْرَجَتِهِ مَلَكاً، فَلَمَّا أتَى عَلَيهِ، قَالَ : أيْنَ تُريدُ؟ قَالَ : أُريدُ أخاً لي في هذِهِ القَريَةِ. قَالَ : هَلْ لَكَ عَلَيهِ مِنْ نِعْمَة تَرُبُّهَا عَلَيهِ؟ قَالَ : لا، غَيْرَ أنِّي أحْبَبْتُهُ في الله تَعَالَى، قَالَ : فإنِّي رَسُولُ الله إلَيْكَ بَأنَّ اللهَ قَدْ أَحَبَّكَ كَمَا أحْبَبْتَهُ فِيهِ». رواه مسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, ’’এক ব্যক্তি অন্য কোন গ্রামে তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হল। আল্লাহ তা’আলা তার রাস্তায় এক ফেরেশতাকে বসিয়ে দিলেন, তিনি তার অপেক্ষা করতে থাকলেন। যখন সে তাঁর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, ’তুমি কোথায় যাচ্ছ?’ সে বলল, ’এ লোকালয়ে আমার এক ভাই আছে, আমি তার কাছে যাচ্ছি।’ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, ’তোমার প্রতি কি তার কোন অনুগ্রহ রয়েছে, যার বিনিময় দেওয়ার জন্য তুমি যাচ্ছ?’ সে বলল, ’না, আমি তার নিকট কেবলমাত্র এই জন্য যাচ্ছি যে, আমি তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি।’ ফেরেশতা বললেন, ’(তাহলে শোনো) আমি তোমার নিকট আল্লাহর দূত হিসাবে (এ কথা জানাবার জন্য) এসেছি যে, আল্লাহ তা’আলা তোমাকে ভালবাসেন; যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালবাস।’’(মুসলিম) [১]
মুসলিম ২৫৬৭, আহমাদ ৯০৩৬, ৯৬৪২, ৯৮৮৭, ১০২২২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৩৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা। এক ব্যক্তি অন্য গ্রামে তার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিল। পথে আল্লাহ এক ফেরেশতাকে পাঠালেন। ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সে কোথায় যাচ্ছে এবং কোনো উপকারের বদলা দিতে যাচ্ছে কি না। লোকটি জানাল, কোনো দুনিয়াবি লাভের জন্য নয়; সে শুধু আল্লাহর জন্য তাকে ভালোবাসে। তখন ফেরেশতা তাকে জানালেন, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন, যেমন সে তার ভাইকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে। এখানে বন্ধুত্বের আসল মানদণ্ড স্পষ্ট: স্বার্থ, উপকার, খ্যাতি বা বিনিময়ের জন্য নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পর্ক রাখা। আল্লাহর জন্য ভালোবাসা মানুষের হৃদয়কে পরিষ্কার করে এবং সম্পর্ককে দুনিয়াবি হিসাবের বাইরে নিয়ে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভাইয়ের সাথে দেখা করা যদি আল্লাহর জন্য হয়, তা মূল্যবান আমল।
- দুনিয়াবি স্বার্থ ছাড়া ভালোবাসা ঈমানি সম্পর্কের সুন্দর উদাহরণ।
- বন্ধুত্বে বিনিময় নয়, নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ।
- আল্লাহর জন্য ভালোবাসা আল্লাহর ভালোবাসা লাভের কারণ হতে পারে।
