১/৪৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৮০ - ঈমানের মিষ্টতা লাভের তিন গুণ
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারো সাথে ভালবাসা রাখার মাহাত্ম্য এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও যে ব্যক্তি অন্য কাউকে ভালবাসে তাকে সে ব্যাপারে অবহিত করা ও কী বলে অবহিত করবে তার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ تَرَىٰهُمۡ رُكَّعٗا سُجَّدٗا يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗاۖ سِيمَاهُمۡ فِي وُجُوهِهِم مِّنۡ أَثَرِ ٱلسُّجُودِۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِۚ وَمَثَلُهُمۡ فِي ٱلۡإِنجِيلِ كَزَرۡعٍ أَخۡرَجَ شَطَۡٔهُۥ فََٔازَرَهُۥ فَٱسۡتَغۡلَظَ فَٱسۡتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعۡجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلۡكُفَّارَۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنۡهُم مَّغۡفِرَةٗ وَأَجۡرًا عَظِيمَۢا ٢٩ ﴿ [الفتح: ٢٩] إِلَى آخر السورةঅর্থাৎ “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করতে দেখবে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন থাকবে, তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপই। আর ইঞ্জীলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা হতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর এটা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং দৃঢ়ভাবে কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে যায়, যা চাষীদেরকে মুগ্ধ করে। এভাবে (আল্লাহ বিশ্বাসীদের সমৃদ্ধি দ্বারা) অবিশ্বাসীদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। ওদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের।” (সূরা ফাত্হ ২৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩ ﴿ [الحشر: ٩]অর্থাৎ “আর (মুহাজিরদের আগমনের) পূর্বে যারা এ নগরী (মদ্বীনা)তে বসবাস করেছে ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে।” (সূরা হাশ্র ৯ আয়াত)
ঈমানের মিষ্টতা: আল্লাহর জন্য ভালোবাসার তিন শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৩৮০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৩৮০
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيِّ ﷺ، قَالَ: «ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلاوَةَ الإيمَانِ : أنْ يَكُونَ اللهُ وَرَسُولُهُ أحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سَوَاهُمَا، وَأنْ يُحِبّ المَرْءَ لاَ يُحِبُّهُ إلاَّ للهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أنْ يَعُودَ في الكُفْرِ بَعْدَ أنْ أنْقَذَهُ الله مِنْهُ، كَمَا يَكْرَهُ أنْ يُقْذَفَ في النَّارِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, ’’যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকে, সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করে থাকে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয় হবে; কাউকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসবে। আর কুফরী থেকে তাকে আল্লাহর বাঁচানোর পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করবে, যেমন সে নিজেকে আগুনে নিক্ষিপ্ত করাকে অপছন্দ করে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ১৬, ২১, ৬০৪১, ৬৯৪১, মুসলিম ৪৩, তিরমিযী ২৬২৪, নাসায়ী ৪৯৮৭, ৪৯৮৮, ৪৯৮৯, ইবনু মাজাহ ৪০৩৩, আহমাদ ১১৫৯১, ১১৭১২, ১২৩৫৪, ১২৩৭২, ১২৩৯০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঈমানের মিষ্টতা লাভের তিনটি গুণ বলা হয়েছে। প্রথমত, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) মানুষের কাছে অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হবে। দ্বিতীয়ত, কাউকে ভালোবাসলে শুধু আল্লাহর জন্য ভালোবাসবে। তৃতীয়ত, আল্লাহ তাকে কুফর থেকে বাঁচানোর পর আবার তাতে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করবে, যেমন আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে। এখানে ঈমান শুধু মুখের দাবি নয়; হৃদয়ের ভালোবাসা, সম্পর্কের নিয়ত এবং কুফর থেকে দূরে থাকার দৃঢ় মনোভাব—সবই এর সাথে জড়িত। আল্লাহর জন্য ভালোবাসা মানে সম্পর্ককে পবিত্র করা, আর আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসা মানে আনুগত্যকে জীবনের কেন্দ্রে রাখা। এই হাদিস মুমিনকে নিজের হৃদয় পরীক্ষা করতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ ও রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর ভালোবাসা মুমিনের হৃদয়ে সবার আগে থাকা উচিত।
- মানুষকে ভালোবাসলে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ঈমানি গুণ।
- কুফরে ফিরে যাওয়াকে গভীরভাবে অপছন্দ করা ঈমানের অংশ।
- ঈমানের মিষ্টতা হৃদয়ের ভালোবাসা ও নিয়তের সাথে জড়িত।
