১/৪৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৩৮৬ - নূরের মিম্বর ও আল্লাহর জন্য মহব্বত
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারো সাথে ভালবাসা রাখার মাহাত্ম্য এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও যে ব্যক্তি অন্য কাউকে ভালবাসে তাকে সে ব্যাপারে অবহিত করা ও কী বলে অবহিত করবে তার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ تَرَىٰهُمۡ رُكَّعٗا سُجَّدٗا يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗاۖ سِيمَاهُمۡ فِي وُجُوهِهِم مِّنۡ أَثَرِ ٱلسُّجُودِۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِۚ وَمَثَلُهُمۡ فِي ٱلۡإِنجِيلِ كَزَرۡعٍ أَخۡرَجَ شَطَۡٔهُۥ فََٔازَرَهُۥ فَٱسۡتَغۡلَظَ فَٱسۡتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعۡجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلۡكُفَّارَۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنۡهُم مَّغۡفِرَةٗ وَأَجۡرًا عَظِيمَۢا ٢٩ ﴿ [الفتح: ٢٩] إِلَى آخر السورةঅর্থাৎ “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করতে দেখবে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন থাকবে, তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপই। আর ইঞ্জীলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা হতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর এটা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং দৃঢ়ভাবে কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে যায়, যা চাষীদেরকে মুগ্ধ করে। এভাবে (আল্লাহ বিশ্বাসীদের সমৃদ্ধি দ্বারা) অবিশ্বাসীদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। ওদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের।” (সূরা ফাত্হ ২৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩ ﴿ [الحشر: ٩]অর্থাৎ “আর (মুহাজিরদের আগমনের) পূর্বে যারা এ নগরী (মদ্বীনা)তে বসবাস করেছে ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে।” (সূরা হাশ্র ৯ আয়াত)
আল্লাহর জন্য মহব্বত: নূরের মিম্বরের হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৭/৩৮৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/৩৮৬
وَعَن مُعَاذٍ رضي الله عنه، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، يَقُولُ: قَالَ اللهُ - عَزَّ وَجَلَّ - : المُتَحَابُّونَ في جَلالِي، لَهُمْ مَنَابِرُ مِنْ نُورٍ يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ. رواه الترمذي، وَقالَ: حديث حسن صحيح
মু'আয (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’’আমার মর্যাদার ওয়াস্তে যারা আপোসে ভালবাসা স্থাপন করবে, তাদের (বসার) জন্য হবে নূরের মিম্বর; যা দেখে নবী ও শহীদগণ ঈর্ষা করবেন।’’(তিরমিযী, হাসান সূত্রে) [১]
তিরমিযী ২৩৯০, আহমাদ ২১৫২৫, ২১৫৫৯, ২১৫৭৫, ২২২৭৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৩৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর জন্য মহব্বতের বড় মর্যাদা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর পক্ষ থেকে জানিয়েছেন, যারা তাঁর মর্যাদার জন্য পরস্পরে ভালোবাসা স্থাপন করবে, তাদের জন্য নূরের মিম্বর থাকবে। হাদিসে আরও এসেছে, নবী ও শহীদগণ তাদের অবস্থান দেখে ঈর্ষা করবেন। এখানে ভালোবাসার মাপকাঠি হলো আল্লাহর জন্য হওয়া। অর্থাৎ সম্পর্কের কেন্দ্র দুনিয়ার লাভ, পদ বা সুবিধা নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি। নূরের মিম্বর হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সময় উদ্দেশ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে ভালোবাসা ঈমান, নেক কাজ ও আল্লাহর স্মরণে সাহায্য করে, সেটি সাধারণ বন্ধুত্বের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর জন্য ভালোবাসা আখিরাতে সম্মানের কারণ হতে পারে।
- সম্পর্কের পেছনের উদ্দেশ্য আল্লাহর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
- ঈমানি বন্ধুত্ব মানুষকে নেক কাজে সাহায্য করে।
- দুনিয়ার স্বার্থের বাইরে ভালোবাসা গড়া উচিত।
