১/৪৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৩৮২ - আল্লাহর জন্য ভালোবাসার মর্যাদা
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারো সাথে ভালবাসা রাখার মাহাত্ম্য এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও যে ব্যক্তি অন্য কাউকে ভালবাসে তাকে সে ব্যাপারে অবহিত করা ও কী বলে অবহিত করবে তার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ تَرَىٰهُمۡ رُكَّعٗا سُجَّدٗا يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗاۖ سِيمَاهُمۡ فِي وُجُوهِهِم مِّنۡ أَثَرِ ٱلسُّجُودِۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِۚ وَمَثَلُهُمۡ فِي ٱلۡإِنجِيلِ كَزَرۡعٍ أَخۡرَجَ شَطَۡٔهُۥ فََٔازَرَهُۥ فَٱسۡتَغۡلَظَ فَٱسۡتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعۡجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلۡكُفَّارَۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنۡهُم مَّغۡفِرَةٗ وَأَجۡرًا عَظِيمَۢا ٢٩ ﴿ [الفتح: ٢٩] إِلَى آخر السورةঅর্থাৎ “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করতে দেখবে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন থাকবে, তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপই। আর ইঞ্জীলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা হতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর এটা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং দৃঢ়ভাবে কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে যায়, যা চাষীদেরকে মুগ্ধ করে। এভাবে (আল্লাহ বিশ্বাসীদের সমৃদ্ধি দ্বারা) অবিশ্বাসীদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। ওদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের।” (সূরা ফাত্হ ২৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩ ﴿ [الحشر: ٩]অর্থাৎ “আর (মুহাজিরদের আগমনের) পূর্বে যারা এ নগরী (মদ্বীনা)তে বসবাস করেছে ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে।” (সূরা হাশ্র ৯ আয়াত)
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা: কিয়ামতের দিনের ছায়ার সুসংবাদ
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৩৮২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৩৮২
وَعَنهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «إنّ الله تَعَالَى يَقُولُ يَوْمَ القِيَامَةِ: أيْنَ المُتَحَابُّونَ بِجَلاَلِي؟ اليَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لاَ ظِلَّ إلاَّ ظِلِّي».رواه مسلم
উক্ত সাহাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন বলবেন, ’আমার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরস্পরকে যারা ভালোবেসেছিল তারা কোথায়? আজকের দিন আমি তাদেরকে আমার ছায়ায় আশ্রয় দেব, যেদিন আমার (আরশের) ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া নেই।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ২৫৬৬, আহমাদ ৭১৯০, ৮২৫০, ৮৬১৪, ১০৪০১, ১০৫২৭, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৭৬, দারেমী ২৭৫৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৩৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন মানুষের কথা বলেছেন, যারা আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য একে অপরকে ভালোবাসে। এই ভালোবাসা কোনো দুনিয়াবি লাভ, খ্যাতি বা স্বার্থের জন্য নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলবেন, তারা কোথায় যারা আমার জন্য পরস্পরকে ভালোবেসেছিল? এরপর তিনি তাদের তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যখন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাই আল্লাহর জন্য ভালোবাসা হাদিস আমাদের শেখায়, সম্পর্ক শুধু রক্ত বা সুবিধার ওপর দাঁড়ায় না; ঈমান, দ্বীনদারি ও আল্লাহভীতির ওপরও সত্য বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এমন সম্পর্ক মানুষকে আখিরাতমুখী করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পর্কের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি হলে তার মর্যাদা বাড়ে।
- আল্লাহর জন্য ভালোবাসা কিয়ামতের দিনে সম্মানের কারণ হতে পারে।
- স্বার্থহীন ঈমানি বন্ধুত্ব হাদিসে প্রশংসিত হয়েছে।
- ভালোবাসার ভিত্তি শুধু দুনিয়াবি লাভ হওয়া উচিত নয়।
