১/৪৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৩৮৩ - সালাম প্রচার ও ঈমানি ভালোবাসা
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারো সাথে ভালবাসা রাখার মাহাত্ম্য এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও যে ব্যক্তি অন্য কাউকে ভালবাসে তাকে সে ব্যাপারে অবহিত করা ও কী বলে অবহিত করবে তার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ تَرَىٰهُمۡ رُكَّعٗا سُجَّدٗا يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗاۖ سِيمَاهُمۡ فِي وُجُوهِهِم مِّنۡ أَثَرِ ٱلسُّجُودِۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِۚ وَمَثَلُهُمۡ فِي ٱلۡإِنجِيلِ كَزَرۡعٍ أَخۡرَجَ شَطَۡٔهُۥ فََٔازَرَهُۥ فَٱسۡتَغۡلَظَ فَٱسۡتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعۡجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلۡكُفَّارَۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنۡهُم مَّغۡفِرَةٗ وَأَجۡرًا عَظِيمَۢا ٢٩ ﴿ [الفتح: ٢٩] إِلَى آخر السورةঅর্থাৎ “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করতে দেখবে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন থাকবে, তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপই। আর ইঞ্জীলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা হতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর এটা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং দৃঢ়ভাবে কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে যায়, যা চাষীদেরকে মুগ্ধ করে। এভাবে (আল্লাহ বিশ্বাসীদের সমৃদ্ধি দ্বারা) অবিশ্বাসীদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। ওদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের।” (সূরা ফাত্হ ২৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩ ﴿ [الحشر: ٩]অর্থাৎ “আর (মুহাজিরদের আগমনের) পূর্বে যারা এ নগরী (মদ্বীনা)তে বসবাস করেছে ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে।” (সূরা হাশ্র ৯ আয়াত)
সালাম প্রচার করো: ঈমান, জান্নাত ও ভালোবাসার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৩৮৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৩৮৩
وَعَنهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «والَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لاَ تَدْخُلُوا الجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أوَلاَ أدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ؟ أفْشُوْا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ». رواه مسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না; যতক্ষণ না তোমরা মুমিন হবে। এবং তোমরা মুমিন হতে পারবে না; যে পর্যন্ত না তোমরা পরস্পরে ভালোবাসা রাখবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজ বলে দেব না, যখন তোমরা তা করবে, তখন তোমরা একে অপরকে ভালোবাসতে লাগবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ৫৪, তিরমিযী ২৬৮৮, আবূ দাউদ ৫১৯৩, ইবনু মাজাহ ৬৮, ৩৬৯২, আহমাদ ৮৮৪১, ৯৪১৬, ৯৮২১, ২৭৩১৪, ১০২৭২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৩৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঈমান, জান্নাত এবং পরস্পরের ভালোবাসার গভীর সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশের জন্য ঈমান দরকার, আর পূর্ণ ঈমানি সম্পর্কের জন্য মুমিনদের মধ্যে ভালোবাসা দরকার। তারপর তিনি একটি সহজ কাজের দিকে পথ দেখিয়েছেন: পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার করা। সালাম শুধু মুখের একটি বাক্য নয়; এটি শান্তি, দোয়া ও সম্মানের প্রকাশ। সালাম প্রচার হাদিস আমাদের শেখায়, ছোট একটি আমলও সমাজে ভালোবাসা তৈরি করতে পারে। পরিবার, মসজিদ, কাজের জায়গা বা রাস্তায় সালাম দেওয়া মুসলিম ভ্রাতৃত্বকে জাগিয়ে রাখে। এই শিক্ষা সরাসরি হাদিসের মূল বার্তার সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাম মুমিনদের মাঝে ভালোবাসা বাড়ানোর সহজ উপায়।
- ঈমানি সমাজে পারস্পরিক ভালোবাসার গুরুত্ব আছে।
- সালাম দেওয়া শুধু রীতি নয়, শান্তির দোয়াও।
- ভালোবাসা বাড়াতে ছোট আমলকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়।
