১/৪৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/৩৮৪ - আল্লাহর জন্য ভাইকে দেখতে যাওয়ার ফজিলত
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারো সাথে ভালবাসা রাখার মাহাত্ম্য এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও যে ব্যক্তি অন্য কাউকে ভালবাসে তাকে সে ব্যাপারে অবহিত করা ও কী বলে অবহিত করবে তার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ تَرَىٰهُمۡ رُكَّعٗا سُجَّدٗا يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗاۖ سِيمَاهُمۡ فِي وُجُوهِهِم مِّنۡ أَثَرِ ٱلسُّجُودِۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِۚ وَمَثَلُهُمۡ فِي ٱلۡإِنجِيلِ كَزَرۡعٍ أَخۡرَجَ شَطَۡٔهُۥ فََٔازَرَهُۥ فَٱسۡتَغۡلَظَ فَٱسۡتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعۡجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلۡكُفَّارَۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنۡهُم مَّغۡفِرَةٗ وَأَجۡرًا عَظِيمَۢا ٢٩ ﴿ [الفتح: ٢٩] إِلَى آخر السورةঅর্থাৎ “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করতে দেখবে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন থাকবে, তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপই। আর ইঞ্জীলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা হতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর এটা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং দৃঢ়ভাবে কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে যায়, যা চাষীদেরকে মুগ্ধ করে। এভাবে (আল্লাহ বিশ্বাসীদের সমৃদ্ধি দ্বারা) অবিশ্বাসীদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। ওদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের।” (সূরা ফাত্হ ২৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩ ﴿ [الحشر: ٩]অর্থাৎ “আর (মুহাজিরদের আগমনের) পূর্বে যারা এ নগরী (মদ্বীনা)তে বসবাস করেছে ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে।” (সূরা হাশ্র ৯ আয়াত)
আল্লাহর জন্য সাক্ষাৎ: ভাইকে দেখতে যাওয়ার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/৩৮৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/৩৮৪
وَعَنه، عَنِ النَّبيِّ ﷺ: «أنَّ رَجُلاً زَارَ أَخَاً لَهُ في قَريَة أُخْرَى، فَأرْصَدَ الله تَعَالَى عَلَى مَدْرَجَتِهِ مَلَكاً»، وَذَكَرَ الحدِيثَ إلى قَولِهِ: « إِنَّ اللهَ قَدْ أَحَبَّكَ كَمَا أحْبَبْتَهُ فِيهِ». رواه مسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, ’’এক ব্যক্তি অন্য কোন গ্রামে তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হল। আল্লাহ তা’আলা তার রাস্তায় এক ফেরেশতাকে বসিয়ে দিলেন, তিনি তার অপেক্ষা করতে থাকলেন।’’ অতঃপর বাকি হাদীস উল্লেখ করে বললেন, ’’আল্লাহ তা’আলা তোমাকে ভালবাসেন যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালবাস।’’ (মুসলিম) (৩৬৫ নং হাদীস দ্রষ্টব্য) [১]
মুসলিম ২৫৬৭, ৯০৩৬, ৯৬৪২, ৯৮৮৭, ১০২২২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/৩৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তির কথা এসেছে, যিনি অন্য গ্রামে তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে বের হন। আল্লাহ তার পথে এক ফেরেশতা বসিয়ে দেন। হাদিসের শেষ অংশে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন যেমন সে তার ভাইকে আল্লাহর জন্য ভালোবেসেছে। এখানে মূল বিষয় হলো, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা শুধু মনে রাখার বিষয় নয়; কখনো তা সাক্ষাৎ, খোঁজ নেওয়া এবং সম্পর্ক রক্ষা করার মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। ভাইকে দেখতে যাওয়ার হাদিস আমাদের শেখায়, মুমিনের সম্পর্ক দুনিয়ার স্বার্থে সীমাবদ্ধ নয়। যখন কারও সঙ্গে দেখা করা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, তখন তা সাধারণ সফর না থেকে একটি নেক আমলে পরিণত হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে দেখা করা প্রশংসিত কাজ।
- সত্য ভালোবাসা কাজে প্রকাশ পায়, শুধু কথায় নয়।
- মুমিন ভাইয়ের খোঁজ নেওয়া সম্পর্ককে সুন্দর করে।
- স্বার্থহীন সাক্ষাৎ আল্লাহর ভালোবাসার কারণ হতে পারে।
